বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: সিদ্ধান্তের চাপ এখন ওয়াশিংটনের ওপর, বল এখন ‘কোর্টে’ বলছে তেহরান

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন আবারও তীব্র আকার নিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বৃদ্ধি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে—সংঘাত নাকি আলোচনা—এ সিদ্ধান্ত এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি তেহরানে কূটনীতিকদের বলেন, “কূটনীতি চালিয়ে যাওয়া হবে নাকি সংঘাতে যাওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। বল এখন তাদের কোর্টে।”

আলোচনায় অচলাবস্থা

সূত্র অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপে নেওয়ার কথা বলা হলেও ওয়াশিংটন সেই প্রস্তাব পুরোপুরি গ্রহণ করেনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবকে আংশিক অগ্রগতি হিসেবে স্বীকার করলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সম্ভাব্য যুদ্ধ ও কূটনৈতিক চেষ্টা

ইরানি সামরিক সূত্র বলছে, আলোচনার ব্যর্থতা নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষভাবে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে, যেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কাতার জানিয়েছে, তারা দুই পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা

দুই দেশের বিরোধের বড় একটি কারণ হলো কৌশলগত হরমুজ প্রণালি। এই পথ ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহন নিয়েও উত্তেজনা বেড়েছে।

পরিস্থিতি কোন দিকে?

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি খুবই নাজুক। একদিকে চলছে সীমিত কূটনৈতিক আলোচনা, অন্যদিকে সামরিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংঘাত—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে বড় সংকটের দিকে যেতে পারে।

ইরান বলছে, তারা দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত—আলোচনা এবং সংঘাত উভয় ক্ষেত্রেই।