ইরানের আকাশসীমা আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার পর সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে United States Department of State। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X (formerly Twitter)-এ দেওয়া এক পোস্টে এ নির্দেশনা জানানো হয়।
পোস্টে মার্কিন নাগরিকদের বলা হয়েছে, ইরান থেকে বের হতে চাইলে বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্য জেনে নিতে। পাশাপাশি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিয়মিত পর্যবেক্ষণেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন সম্পর্কে তারা অবগত থাকতে পারেন।
এছাড়া, আকাশপথের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে সড়কপথে দেশত্যাগের সুযোগের কথাও উল্লেখ করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। মার্কিন নাগরিকরা চাইলে ইরান থেকে স্থলপথে Armenia, Azerbaijan, Turkey এবং Turkmenistan-এ প্রবেশ করতে পারবেন। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে Afghanistan ও Iraq-এ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
পোস্টে আরও সতর্ক করা হয়, ইরানের সরকার দেশত্যাগের ক্ষেত্রে বাধা দিতে পারে কিংবা ‘এক্সিট ফি’ দাবি করতে পারে। বিশেষ করে যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে, তাদের ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে একই সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। Donald Trump জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে এবং শুক্রবারের মধ্যেই এ বিষয়ে ‘সুসংবাদ’ আসতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম New York Post-এর বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদের সূত্রগুলো বলছে, আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে।
এর আগে Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত অবরোধ বজায় রাখা হবে এবং সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আলোচনার সুযোগ তৈরি রাখতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদও সাময়িকভাবে বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশত্যাগের নির্দেশ, অন্যদিকে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা—এই দুই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অঞ্চলটি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।