বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত চলমান সংঘাতের অবসান হবে না। তার ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাই বর্তমানে যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে অনেক কিছু অর্জন করেছি। যুদ্ধবিরতি চলছে, কিন্তু যুদ্ধ শেষ হয়নি। যতদিন ইরানের ইউরেনিয়াম অপসারণ না করা হবে, ততদিন এই যুদ্ধ চলবে।”
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইরানের গোপন স্থাপনাগুলোতে এখনও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চলছে। যদিও তাদের সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে, তবে তা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। বিশুদ্ধতার মাত্রা ৯০ শতাংশে পৌঁছালে তা দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন সম্ভব বলে মনে করা হয়।
এই তথ্য প্রকাশের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে তুলে ধরছে। গত বছর জুনে ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক অভিযানও চালানো হয়। তবে সে সময় ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়।
এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জেনেভা-তে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। পরবর্তীতে আবারও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হয়।
নেতানিয়াহু বলেন, “যদি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়, তাহলে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আমি এখানে কোনো মন্তব্য করব না।”
তিনি আরও জানান, যুদ্ধ কখন শেষ হবে তার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। তবে তার মতে, “এই যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের ইউরেনিয়াম।”
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে চলমান উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে সমঝোতা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।