রবিবার , ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ইমামদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসকের

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

ইসলামিক ব্যক্তিত্ব ও ইমামদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ইব্রাহিম তাওরে। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ‘উগ্রবাদী ইসলামের’ বিরুদ্ধে তাদের লড়াই ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম তাওরে মুসলিম নেতাদের উদ্দেশে সতর্ক করে বলেছেন, যারা উগ্রবাদ প্রচার করবেন তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “যদি এটি আপনাদের ইসলাম হয়ে থাকে, আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব। উগ্রবাদীদের অবশ্যই পরিবর্তন হতে হবে। যদি তারা পরিবর্তন না হয়, তাহলে যুদ্ধ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।”

এর আগে কয়েকজন প্রভাবশালী ইমামকে আটক এবং বিতর্কিত ধর্মীয় আইন পাস করেছে বুরকিনা ফাসোর সরকার। তাওরে দাবি করেছেন, এই আইনের মাধ্যমে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রক্ষা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যেসব ইমাম খুতবায় উগ্রবাদ ছড়াবেন তাদের বহিষ্কার করা হবে। তবে যারা ইসলামের শান্তির বার্তা প্রচার করবেন, তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বুরকিনা ফাসোর সামরিক সরকার অভিযোগ করেছে, বিদেশি শক্তিগুলো ধর্মকে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে সমালোচকদের দাবি, নতুন আইন ও পদক্ষেপের মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হচ্ছে।

সম্প্রতি দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী প্রসিদ্ধ সুন্নি ইমাম মোহাম্মদ ইশহাক কিন্দোকে আটক করে। তিনি নতুন ধর্মীয় আইনের সমালোচনা করেছিলেন। তার আটকের পর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে রাজধানী ওগাদোগুর একটি বড় সুন্নি মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এছাড়া মাহমুদ বারো নামে আরেক ইমামকেও একই ধরনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। গত ২০ জুন বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তীকালীন পার্লামেন্টে সর্বসম্মতিক্রমে নতুন ধর্মীয় আইন পাস হয়। এতে ধর্মের অপব্যবহার, শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।