বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ইবোলার নতুন টিকা পেতে লাগতে পারে আরও ৯ মাস, সতর্ক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের নতুন ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা বাজারে আসতে আরও অন্তত ৯ মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

বুধবার World Health Organization–এর জেনেভা সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির উপদেষ্টা ভাসি মূর্তি জানান, ইবোলার বুন্ডিবুগিও প্রজাতি ঠেকাতে সম্ভাব্য দুটি টিকার উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। তবে সেগুলো এখনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

তিনি বলেন, “টিকা সম্পূর্ণ প্রস্তুত হওয়া এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ করতে প্রায় ৯ মাস সময় লাগতে পারে।”

মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো–তে বর্তমানে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে ইবোলা। ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, দেশটিতে এ পর্যন্ত ইবোলার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৩৯ জন এবং আরও প্রায় ৬০০ জনের মধ্যে উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

এছাড়া নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৫১ জন, যাদের সবাই কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের ইতুরি ও উত্তর কিভু প্রদেশের বাসিন্দা। প্রতিবেশী উগান্ডা–তেও দুজন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ভাইরাসটি ‘বুন্ডিবুগিও’ প্রজাতির বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এর আগে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটিয়েছিল ‘জাইর’ প্রজাতি।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত ১৭ মে বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেন, কঙ্গোতে পরিস্থিতি আঞ্চলিকভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এখনো তা বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে যায়নি।

এদিকে ইবোলা মোকাবিলায় কঙ্গোকে ২ কোটি পাউন্ড সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এই অর্থ স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং নজরদারি কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

ইবোলা একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি কিংবা অন্যান্য শারীরিক তরলের সংস্পর্শে ছড়ায়। বাতাসের মাধ্যমে না ছড়ালেও রোগটির মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্তদের নাক, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ কারণেই রোগটিকে ‘হেমারোজিক ফিভার’ বা রক্তক্ষরণ জ্বর বলা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইবোলায় গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে কঙ্গোর সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে এই হার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।