বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ইফতার ও তারাবিতে মুসল্লিদের ঢল

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের New York Cityতে পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঐতিহাসিক টাইমস স্কয়ারে ইফতার ও তারাবির জামাতে অংশ নিয়েছেন শত শত মুসল্লি। শুক্রবার রাতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ব্রডওয়ে ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউ এলাকায় প্রায় দেড় হাজার মানুষের মাঝে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করা হয়।

রমজানের পবিত্রতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজন করা এই কর্মসূচিতে সূর্যাস্তের পর ইফতার গ্রহণ করেন অংশগ্রহণকারীরা। পরে এশার নামাজ আদায় শেষে তারাবির জামাতে অংশ নেন তারা। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে প্রতিবছরই টাইমস স্কয়ারে এ ধরনের আয়োজন হয়ে আসছে।

কোরআন বিতরণ ও ইসলাম গ্রহণ

আয়োজকদের ভাষ্য, কর্মসূচিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইফতার প্যাকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন ভাষায় ১ হাজার ২০০ কপি কোরআন শরিফ বিতরণ করা হয়। পুরো আয়োজনটি সমন্বয় করেন মুসলিম আমেরিকান কনটেন্ট ক্রিয়েটর ওয়ে লাইফ এসকিউ। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করেন, যা অনলাইন ও সরেজমিনে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

আয়োজকের দাবি, ওই রাতে দুজন মার্কিন নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে উৎসাহ ও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা

তবে আয়োজন চলাকালে একজন অমুসলিম ব্যক্তি এসে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করেন এবং ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। আয়োজক ও কয়েকজন উপস্থিত ব্যক্তি তার আচরণ ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন।

বহুত্ববাদের প্রতিচ্ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এ আয়োজনের অন্তর্ভুক্তিমূলক দিকটি তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র Zohran Mamdani নির্বাচিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায় বলে মন্তব্য করেন অনেকে। ইফতার বিতরণ সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং পথচারীরাও এতে অংশ নিতে পেরেছেন—এমন মন্তব্যও দেখা যায়।

উল্লেখ্য, বর্তমান মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের আগে সাবেক মেয়র Eric Adams-এর সময়ও টাইমস স্কয়ারে এমন কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া Washington Square Parkসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে নিয়মিত রমজান আয়োজন হয়ে আসছে।

নিউইয়র্ক সিটিতে বর্তমানে পাঁচ লাখের বেশি মুসলমান রমজান পালন করছেন। ইবাদত, দান ও সংযমের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা দিতেই এ ধরনের আয়োজন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।