বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ইপিএসএমপি-২০২৫: নাগরিক সমাজের উদ্বেগ, বাস্তবায়ন হলে রপ্তানি খাত চরমভাবে বিপর্যস্ত হবে

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

নাগরিক সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধি সংগঠন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ২৫ বছরের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (ইপিএসএমপি-২০২৫) বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছে। তারা মনে করেন, খসড়া মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত এবং অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

রোববার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি), উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্চ (সিইপিআর), ইথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ (ইটিআই বাংলাদেশ) সহ বিভিন্ন সংগঠন খসড়া মহাপরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে মনোয়ার মোস্তফা (ক্লিন) বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল কেবল নিয়মিত রাষ্ট্র পরিচালনা নিশ্চিত করা। কিন্তু তারা দীর্ঘমেয়াদি, ঝুঁকিপূর্ণ ও বহুমাত্রিক প্রভাবসম্পন্ন জ্বালানি পরিকল্পনা চাপিয়ে দিচ্ছে। হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া কো-ফায়ারিং ও কার্বন ক্যাপচারের মতো ব্যয়বহুল ও পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি এখানে সমাধান হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয়।”

তিনি আরও জানান, মহাপরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ মাত্র ১৭ শতাংশ, যেখানে কাগজে দেখানো হয়েছে ৪৪ শতাংশ। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষমতা ১৫.৮০ গিগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ২৫.২০ গিগাওয়াট করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ প্রস্তাব অনুযায়ী ২৫ বছর পরও এলএনজি, কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরতা থাকবে ৫০ শতাংশ, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি।

সংবাদ সম্মেলনে বিডব্লিউজিইডির সদস্য সচিব হাসান মেহেদী বলেন, “খসড়া মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে জনসাধারণ, নাগরিক সমাজ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। কোনো জনশুনানি বা উন্মুক্ত পরামর্শ ছাড়াই এটি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

এছাড়া, ইথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের মুনীর উদ্দীন শামীম বলেন, “নাগরিক হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এই পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়িত হয়, রপ্তানি খাত চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে এবং ২০২৭ সালের পর নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জেটনেট-বিডি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। তারা সবাই এ পরিকল্পনার ত্বরিত বাস্তবায়নের বিপক্ষে সতর্ক করেছেন এবং নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সরকারের অধীনে বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ মহাপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।