জ্বালানি খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসি-এর দুই সহযোগী কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে তাদের টিকে থাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কোম্পানিটির নিরীক্ষক। এই শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে ইন্ট্রাকোর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সমাপ্ত আর্থিক প্রতিবেদন-এ।
নিরীক্ষক মো. রাগিব আহসান, আহসান মঞ্জুর অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস-এর ম্যানেজিং পার্টনার, সহযোগী প্রতিষ্ঠান আবসার অ্যান্ড ইলিয়াস এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড ও ইন্ট্রাকো অটোমোবাইলস লিমিটেড-এর আর্থিক প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করেছেন।
আবসার অ্যান্ড ইলিয়াস এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড-এর কার্যক্রম ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে, যেহেতু প্রধান সরঞ্জামাদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে ওই বছর কোম্পানিটি ৫৬ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। কোম্পানিটি সরঞ্জামাদি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে, তবে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা কতটা সম্ভব তা এখনো অনিশ্চিত।
ইন্ট্রাকো অটোমোবাইলস লিমিটেড-এর কার্যক্রম ২০২৫ সালের মার্চে বন্ধ হয়েছে, কারণ জমির ইজারা চুক্তি শেষ হয়ে গেছে। পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই কোম্পানির বিনিয়োগ ভোলা নন-পাইপ গ্যাসলাইন ইউনিটে স্থানান্তর করা হবে।
অন্যদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইন্ট্রাকোর শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) হয়েছে ২১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ২৬ পয়সা ছিল। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (NAVPS) দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৪৫ পয়সায়।
২০২৪-২৫ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক ছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১.২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানির পর্ষদ। একই সময়ে ইপিএস হয়েছে ৮৬ পয়সা, যা আগের বছরে ছিল ৮৮ পয়সা।
২০১৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্ট্রাকোর অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৯৮ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কোম্পানির রিজার্ভ ৩২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং মোট শেয়ার সংখ্যা ৯ কোটি ৮২ লাখ ৩২ হাজার ৭৫০। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার ৩০.০৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ২২.৯২ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ০.৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪৮.৯৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।