রবিবার , ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ইটিপি ট্যাংকে নেমেই মৃত্যু! সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল আরও এক শ্রমিকের

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

ময়মনসিংহের ভালুকায় এক্সিল্যান্ড সিরামিক্স গ্রুপের নির্মাণাধীন ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) ট্যাংকে নেমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্ধারকাজে কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন সহকর্মীরা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও বড়চালা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন খুলনার কয়রা উপজেলার নক্সা-আমাদী গ্রামের ফারুক গাজীর ছেলে মেকানিক্যাল ওয়েল্ডার শফিকুল ইসলাম এবং নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার বল্লী গ্রামের কুহিল মিয়ার ছেলে সিভিল হেলপার রুমেল

সহকর্মীদের দাবি, শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে রুমেল ইটিপি প্ল্যান্টের ট্যাংকে নামার পর অক্সিজেনের তীব্র সংকটে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে বাঁচাতে নিচে নামেন মেকানিক্যাল ওয়েল্ডার শফিকুল ইসলাম। কিন্তু তিনিও একইভাবে অক্সিজেনের অভাবে অচেতন হয়ে যান।

পরে অন্য শ্রমিকরা মই বেয়ে নিচে নেমে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে ট্যাংকের ভেতরে আটকে থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালায়নি এবং হাসপাতালে পাঠাতেও গড়িমসি করেছে। তাদের দাবি, এই অবহেলার কারণেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

তবে এক্সিল্যান্ড সিরামিক্স গ্রুপের স্যানিটারি প্ল্যান্টের প্রধান অবিনাশ কুন্ডু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিহতরা প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী শ্রমিক ছিলেন না; তারা ঠিকাদারের অধীনে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। উদ্ধারকাজে কোনো অবহেলা করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শিল্প পুলিশ ময়মনসিংহ-৫-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গুপিনাথ কাঞ্জিলাল জানিয়েছেন, পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতির প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।