গুঞ্জনটা সত্যিই হতে চলল বটে। শীতকালীন দলবদলেই প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লেস্টার সিটি ছাড়ছেন বাংলাদেশের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। লোন ডিলে বাকি মৌসুমের জন্য তিনি খুঁজে নিচ্ছেন নতুন ক্লাব। ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, দুই পক্ষের মাঝে চুক্তিটা প্রায় পাকা হয়েই গিয়েছে। এখন কেবল দেখার বিষয়, সত্যিই কি ধারে যাচ্ছেন হামজা, নাকি পুরোপুরিই নিজের শৈশবের ক্লাব ছাড়ছেন তিনি।
অবশ্য ক্লাব বদল হলেও ইংলিশ ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছেন না হামজা চৌধুরী। গুঞ্জন ছিল শেফিল্ড ইউনাইটেডকে নিয়ে। ইংলিশ ফুটবলের ২য় বিভাগের লিগ ‘চ্যাম্পিয়নশিপে’ যাচ্ছেন হামজা। বেশ কিছুদিন ধরেই দ্য ব্লেডসদের নজরে ছিলেন হামজা চৌধুরী। এই চুক্তির জন্য বেশ মুখিয়েই ছিল গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমনের শিকার হওয়া দলটা।
দলবদলের ব্যাপারে আরও বেশি নিশ্চিত হওয়া গেল চলতি সপ্তাহের এফএ কাপের ম্যাচে। পুঁচকে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের বিপক্ষে একমিনিটও মাঠে নামেননি হামজা। পুরোটা সময় পার করেছেন সাইডবেঞ্চে বসে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই শেফিল্ডের হয়ে চুক্তিটা সেরে নেবে লেস্টার সিটি। সে কারণেই ম্যাচ খেলিয়ে বাংলাদেশি তারকার ওপর ঝুঁকি নিতে চায়নি তারা। ম্যাচটা অবশ্য লেস্টার জিতেছে ৬-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে।
ইংলিশ ফুটবলের কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম বিভাগ চ্যাম্পিয়নশিপের ৩য় থেকে ৬ষ্ঠ স্থানে থাকা চারদল অংশ নেয় প্রিমিয়ার লিগ কোয়ালিফিকেশনে। শেফিল্ড আপাতত আছে সেই স্থানে। যেখানে তাদের সঙ্গে অবস্থান করছে সান্দারল্যান্ড, মিডলসব্রো, ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়ন। আর এই লিগে শীর্ষে আছে লিডস ইউনাইটেড।
অবশ্য প্রিমিয়ার লিগে লেস্টার সিটিও যে খুব সুবিধাজনক অবস্থায় আছে এমনটা বলা চলে না। ২০ ম্যাচে মাত্র ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে অবনমন অঞ্চলে। ১৯তম স্থানে ২০১৬ সালের লিগ চ্যাম্পিয়নরা। শেষ ৫ ম্যাচেই হার তাদের।
লেস্টারে অবশ্য পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলারই সুযোগ পাচ্ছেন না হামজা চৌধুরী। দলবদলের পর শেফিল্ডের জার্সিতে অন্তত নিয়মিত মাঠে নামতে পারবেন তিনি। সেদিক বিবেচনায় প্রিমিয়ার লিগ ছাড়লেও খুব একটা আক্ষেপ পোড়াবে না হামজা চৌধুরীর ভক্তদের।