গত ০২ এপ্রিল ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ আনুমানিক রাত ২১:৩০ ঘটিকায় র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং র্যাব-০৬ এর সহযোগীতায় গোপালগঞ্জ জেলার সদর এলাকায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে রাজবাড়ী জেলার কালুখালী থানার মামলা নং-০৭, তারিখ-১৯/০২/২০২৪ইং, ধারা-১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৩৮০/৫০৬ পেনাল কোড; ব্যাপক আলোচিত মঙ্গল চন্দ্র হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামি বিপুল প্রামাণিক (৪৫), পিতা-নিখিল প্রামানিক, সাং-লাড়ীবাড়ী, থানা-কালুখালী, জেলা-রাজবাড়ী’কে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ভিকটিম মঙ্গল চন্দ্র, সাং-লাড়ীবাড়ী, থানা-কালুখালী, জেলা-রাজবাড়ীর সাথে আসামি বিপুল প্রামাণিকের জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসচ্ছিল। উক্ত বিরোধের জের ধরে গত ইং ১৯/০২/২০২৪ তারিখ আনুমানিক মাঝরাত ০১:৩০ ঘটিকায় আসামি বিপুল প্রামাণিক তার অন্যান্য সহযোগদের নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে দা, ছেনিসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মঙ্গল চন্দ্রের বসত বাড়ীতে প্রবেশ করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মঙ্গল চন্দ্রকে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ীর উঠানে নিয়ে আসে।
ঐ সময় আসামি বিপুল প্রামাণিকের হাতে থাকা ধারালো ছেন-দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মঙ্গল চন্দ্রের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। একপর্যায় ভিকটিম মঙ্গল চন্দ্রের আত্মীয়স্বজনরা এগিয়ে আসলে বিপুল প্রামাণিকসহ অন্যান্য আসামিরা ঘটনাস্থল হতে চলে যায়। অতঃপর মঙ্গল চন্দ্রের আত্মীয়স্বজন মঙ্গল চন্দ্রকে আশংকাজনক অবস্থায় কালুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসক মঙ্গল চন্দ্রের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরবর্তীতে মঙ্গল চন্দ্রকে উক্ত হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ০৩/০৩/২০২৪ইং তারিখ মঙ্গল চন্দ্র মৃত্যুবরণ করেন।
উক্ত ঘটনার পর মৃত মঙ্গল চন্দ্রের ছেলে কুমারেশ কুমার (৩৭) বাদী হয়ে রাজবাড়ী জেলার কালুখালী থানায় বিপুল প্রামাণিকসহ ০৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর থেকে হত্যাকান্ডে জড়িত সকল আসামিরা নিজেদেরকে আইনের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আত্মগোপনে চলে যায়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।