যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনা ঘিরে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে Iran। অতীত অভিজ্ঞতায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও সামরিক হামলার অভিযোগ তুলে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে—ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় তারা আগ্রহী নয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল Islamabad-এ পৌঁছালেও মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক এড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। এতে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের জুনে আলোচনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হামলা চালায়। সে সময় মার্কিন প্রতিনিধি Steve Witkoff এবং Jared Kushner ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। এই ঘটনার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থাহীনতা আরও বেড়েছে ইরানের।
১২ দিনব্যাপী সেই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও Israel যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এতে ব্যবহার করা হয় B-2 Spirit বোমারু বিমান এবং শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার বোমা। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে—ইরান আবারও পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে Muscat-এ দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সেই আলোচনাও মাঝপথে ভেঙে যায় এবং পরবর্তীতে সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump আলোচনায় অসন্তোষ প্রকাশের পরপরই হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি ইরানের।
বর্তমানে আবারও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন—যুক্তরাষ্ট্রকে তারা বিশ্বাস করেন না। একই সঙ্গে তারা সামরিক প্রস্তুতি জোরদার রাখার কথাও জানিয়েছেন। দেশটির কট্টরপন্থী অংশ বলছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আলোচনার বিষয় নয়।
এ অবস্থায় Islamabad-এ সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হলেও এর ফলাফল কী হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাস কাটানো না গেলে এই আলোচনা কার্যকর কোনো সমাধানে পৌঁছানো কঠিন হবে।