শুক্রবার , ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ || ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি

আরাফবাসী কারা? কোরআনে তাদের নিয়ে যা বলা হয়েছে

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

প্রতীকী ছবি
নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী ধ্বংস করবেন। এরপর কিয়ামত কায়েম হবে। যার আমলের পাল্লা ভারী হবে সে জান্নাতে যাবে। যার আমল খারাপ হবে সে জাহান্নামে যাবে। এই দুই শ্রেণী ছাড়াও আরেকটি শ্রেণী থাকবে—

আরাফবাসী কারা?
যাদের নেক আমল এতো বেশি নয় যে, তা তাদের সরাসরি জান্নাতে নিয়ে যায়, আবার মন্দ আমলও এমন নয় যে তা তাদের জাহান্নামে নিয়ে যায়। বলা যায়, তাদের মন্দ ও ভালো দুটোই সামান্য যা তাদের কোনো দিকে ঠিক মতো নিয়ে যায় না। এমন লোকদের জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝামাঝি একটি প্রাচীরের স্থানে রাখা হবে।

তারা জান্নাত ও জাহান্নাম উভয় দিকের অবস্থা নিরীক্ষণ করবে এবং উভয়পক্ষের লোকদের সাথে প্রশ্নোত্তর ও কথাবার্তা বলবে। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আরাফ উঁচু টাওয়ারের মত যা জান্নাত এবং জাহান্নামের মাঝখানে থাকবে। গুনাহগার কিছু বান্দাকে সেখানে রেখে দেয়া হবে।তারা এখানে জান্নাতে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকবে। এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাইবে।

কেউ কেউ বলেন, কিছু লোক এমনও থাকবে, যারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে, কিন্তু তখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করার আশা পোষণ করবে। তাদেরকেই আরাফবাসী বলা হয়।

তাদেরকে দেয়ালের উপর দাঁড় করিয়ে রাখা হবে। সুতরাং তারা যখন জান্নাতীদের দিকে তাকাবে তখন তারা জান্নাতের আশা করবে, আর যখন জাহান্নামীদের দিকে তাকাবে তখন তারা জাহান্নাম থেকে নিস্কৃতি কামনা করবে। অতপর তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করা হবে।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এই শ্রেণীর মানুষকে আরাফবাসী বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সূরা আরাফের ৪৪-৪৯ নম্বর আয়াতে তাদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আরাফবাসীরা আরাফ নামক স্থানে অল্প সময়ের জন্য অবস্থান করবেন এবং জান্নাতে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করবেন। পবিত্র কোরআনে তাদের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে—

﴿ وَنَادَىٰٓ أَصۡحَٰبُ ٱلۡجَنَّةِ أَصۡحَٰبَ ٱلنَّارِ أَن قَدۡ وَجَدۡنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقّٗا فَهَلۡ وَجَدتُّم مَّا وَعَدَ رَبُّكُمۡ حَقّٗاۖ قَالُواْ نَعَمۡۚ فَأَذَّنَ مُؤَذِّنُۢ بَيۡنَهُمۡ أَن لَّعۡنَةُ ٱللَّهِ عَلَى ٱلظَّٰلِمِينَ ٤٤ ٱلَّذِينَ يَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ وَيَبۡغُونَهَا عِوَجٗا وَهُم بِٱلۡأٓخِرَةِ كَٰفِرُونَ ٤٥ وَبَيۡنَهُمَا حِجَابٞۚ وَعَلَى ٱلۡأَعۡرَافِ رِجَالٞ يَعۡرِفُونَ كُلَّۢا بِسِيمَىٰهُمۡۚ وَنَادَوۡاْ أَصۡحَٰبَ ٱلۡجَنَّةِ أَن سَلَٰمٌ عَلَيۡكُمۡۚ لَمۡ يَدۡخُلُوهَا وَهُمۡ يَطۡمَعُونَ ٤٦۞وَإِذَا صُرِفَتۡ أَبۡصَٰرُهُمۡ تِلۡقَآءَ أَصۡحَٰبِ ٱلنَّارِ قَالُواْ رَبَّنَا لَا تَجۡعَلۡنَا مَعَ ٱلۡقَوۡمِ ٱلظَّٰلِمِينَ ٤٧ وَنَادَىٰٓ أَصۡحَٰبُ ٱلۡأَعۡرَافِ رِجَالٗا يَعۡرِفُونَهُم بِسِيمَىٰهُمۡ قَالُواْ مَآ أَغۡنَىٰ عَنكُمۡ جَمۡعُكُمۡ وَمَا كُنتُمۡ تَسۡتَكۡبِرُونَ ٤٨ أَهَٰٓؤُلَآءِ ٱلَّذِينَ أَقۡسَمۡتُمۡ لَا يَنَالُهُمُ ٱللَّهُ بِرَحۡمَةٍۚ ٱدۡخُلُواْ ٱلۡجَنَّةَ لَا خَوۡفٌ عَلَيۡكُمۡ وَلَآ أَنتُمۡ تَحۡزَنُونَ ٤٩ ﴾ [الاعراف: ٤٤، ٤٨]

আর জান্নাতের অধিবাসীগণ আগুনের অধিবাসীদেরকে ডাকবে যে, আমাদের রব আমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছেন তা আমরা সত্য পেয়েছি। সুতরাং তোমাদের রব তোমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছেন, তা কি তোমরা সত্যই পেয়েছ? তারা বলবে হ্যাঁ, অতঃপর এক ঘোষক তাদের মধ্যে ঘোষণা দিবে যে, আল্লাহর লানত যালিমদের উপর। যারা আল্লাহর পথে বাধা প্রদান করত এবং তাতে বক্রতা সন্ধান করত এবং তারা ছিল আখিরাতকে অস্বীকারকারী আর তাদের মধ্যে থাকবে পর্দা এবং আরাফের উপর থাকবে কিছু লোক, যারা প্রত্যেককে তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনবে।

আর তারা জান্নাতের অধিবাসীদেরকে ডাকবে যে, তোমাদের উপর সালাম। তারা (এখনো) তাতে প্রবেশ করেনি তবে তারা আশা করবে। আর যখন তাদের দৃষ্টিকে আগুনের অধিবাসীদের প্রতি ফেরানো হবে, তারা বলবে, হে আমাদের রব, আমাদেরকে যালিম কওমের অন্তর্ভুক্ত করবেন না। আর আরাফের অধিবাসীরা এমন লোকদেরকে ডাকবে, যাদেরকে তারা চিনবে তাদের চিহ্নের মাধ্যমে, তারা বলবে, তোমাদের দল এবং যে বড়াই তোমরা করতে তা তোমাদের উপকারে আসেনি। এরাই কি তারা যাদের ব্যাপারে তোমরা কসম করতে যে, আল্লাহ তাদেরকে রহমতে শামিল করবেন না? তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর। তোমাদের উপর কোনো ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিত হবে না। (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৪৪-৪৯)

হাদিসের বর্ণনায় আরাফবাসীর পরিচয়
আরাফবাসীদের পরিচয় সম্পর্কে হজরত হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—

আরাফবাসী হলো এমন এক দল, যাদের সৎকর্ম এতো পরিমাণ যে তা তাদের জাহান্নামে যেতে দেয় না আবার পাপাচার এত পরিমাণ যে তা জান্নাতে প্রবেশ করতে দেয় না। (অর্থাৎ পাপ ও পুণ্য সমানে সমান) যখন তাদের মুখ জাহান্নামবাসীদের দিকে ফেরানো হবে তখন তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদেরকে জালিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করবেন না। তারা এমনি অবস্থায় থাকবে। তখন তোমার প্রতিপালক বলবেন, যাও, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো। তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম। (বুখারি, মুসলিম, হাকেম, হাদিস : ৩২৪৭)