প্রথমবারের মতো আফ্রিকার অন্তত ছয়টি দেশে সেনা মোতায়েনের কথা স্বীকার করেছে রাশিয়ার সরকারি টেলিভিশন। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা বিশ্বে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পর মস্কো এখন মহাদেশটিতে নিজেদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বিস্তারে মনোযোগ দিচ্ছে।
রোববার (১৬ নভেম্বর) প্রচারিত এক প্রতিবেদনে রুশ রাষ্ট্রীয় টিভির এক প্রতিবেদক জানান, রুশ সশস্ত্র বাহিনীর ইউনিটের অফিসার ও সৈন্যরা ইতোমধ্যেই আফ্রিকার ছয় দেশে কাজ করছে।
প্রতিবেদনে মালি ছাড়া অন্য দেশগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বুরকিনা ফাসো, নাইজার, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ও লিবিয়াতে রাশিয়ার সেনা বা সামরিক প্রশিক্ষকদের উপস্থিতি রয়েছে।
ওয়াগনার গ্রুপের নেতা ইভগেনি প্রিগোজিনের মৃত্যুর পর দলটি পুনর্গঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের জুনে সাহেল অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছিল, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘আফ্রিকা কর্পস’ ইউনিট মহাদেশজুড়ে ওয়াগনার গোষ্ঠীর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টিভির প্রতিবেদনে ‘আফ্রিকা কর্পস’কে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ইউনিট হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, আফ্রিকায় মোতায়েনকৃত সেনারা ইউক্রেন যুদ্ধে অভিজ্ঞ।
প্রতিবেদনে মালির একটি রুশ সামরিক ঘাঁটিতে ওয়াগনারের পরিচিত ‘স্কাল’ লোগোর মতো একটি পতাকা উড়তে দেখা যায়। এছাড়া ভিডিওতে দুটি রুশ বোমারু বিমানকে হামলা চালাতে এবং হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়া যানসহ ভারী সামরিক সরঞ্জাম দেখানো হয়েছে।
রাশিয়ার দাবি, তাদের সেনারা কয়েকটি আফ্রিকান দেশের সরকারকে চরমপন্থী বিদ্রোহ দমনে সহায়তা করছে।