বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

আন্তর্জাতিক রক্তদাতা দিবসে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সহায়তায় ইউএস-বাংলা গ্রুপের উদ্যোগ

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য নিরাপদ রক্তের জোগান নিশ্চিত করা এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষকে উৎসাহিত করতে সচেতনতামূলক সেমিনার ও রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করেছে US-Bangla Group। আন্তর্জাতিক রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর Uttara-এ অবস্থিত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের করপোরেট কার্যালয়ে Bangladesh Thalassemia Foundation-এর সহযোগিতায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের নিয়মিত রক্তের প্রয়োজনীয়তা এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ Dr. Razia Sultana বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তরোগ, যেখানে শরীরে স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন উৎপাদন ব্যাহত হয়। ফলে রোগীরা দীর্ঘমেয়াদি রক্তস্বল্পতায় ভোগেন এবং অনেক ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার জন্য নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়।

তিনি জানান, বিশ্বে প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলেও বাংলাদেশে এ হার প্রায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। দেশে আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ লাখ মানুষ এই রোগের বাহক এবং প্রতিবছর ৬ থেকে ৮ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

ডা. রাজিয়া সুলতানা বলেন, বাবা-মা উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ২৫ শতাংশ থাকে। তবে সময়মতো পরীক্ষা ও পরামর্শের মাধ্যমে ঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই জানা সম্ভব। তিনি রোগ নির্ণয়ে সিবিসি, হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

চিকিৎসা বিষয়ে তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়ার একমাত্র নিরাময়মূলক চিকিৎসা হলো বোন ম্যারো বা স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টেশন। তবে বর্তমানে অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন ও আয়রন চিলেশন থেরাপিই প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতি। সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে রোগীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

অনুষ্ঠানে ইউএস-বাংলা গ্রুপের চিফ অব মেডিক্যাল সার্ভিস Dr. S M Kawsar Nahid বলেন, রক্তদান শুধু একটি মানবিক কাজ নয়, এটি একজন মানুষের জীবন রক্ষার অন্যতম কার্যকর উপায়। তিনি জানান, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সাধারণত প্রতি দুই থেকে চার সপ্তাহ পরপর রক্তের প্রয়োজন হয়। একজন স্বেচ্ছা রক্তদাতার দেওয়া এক ব্যাগ রক্ত একজন রোগীর জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করতে পারে।

এদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) Md. Kamrul Islam বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এবার প্রথমবারের মতো রক্তদান কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটিকে আরও বড় পরিসরে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

আয়োজকরা জানান, কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে সচেতনতামূলক সেমিনার এবং দিনব্যাপী স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য নিরাপদ রক্তের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।