বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

আনোয়ারায় ৮০০ একরজুড়ে চীনা শিল্পাঞ্চল গড়ার নীতিগত অনুমোদন, জিটুজি চুক্তির পথে প্রকল্প

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলাতে চীনা বিনিয়োগে একটি অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। “চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (CEIZ)” নামে এই প্রকল্পটি সরকার-টু-সরকার (G2G) ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে।

বুধবার (১৭ জুন) সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিষয়টি অনুমোদন পায়।

প্রকল্পের পরিসর

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আনোয়ারায় প্রায় ৮০০ একর জমি নিয়ে এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি মূলত চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সমন্বিত শিল্পকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

বাস্তবায়ন কাঠামো

এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি স্পেশাল পারপাস কোম্পানি (SPC) গঠন করা হয়েছে—
বাংলাদেশ সিইআইজেড কোং লিমিটেড

প্রস্তাব অনুযায়ী মালিকানা কাঠামো হবে:

  • বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা): ৩০%
  • চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন (CRBC): ৭০%

বেজার অংশ হিসেবে জমির ৫০ বছরের লিজ মূল্য মূলধন হিসেবে গণ্য করা হবে। অন্যদিকে চীনা পক্ষ নগদ অর্থ বিনিয়োগ করবে, যা অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশাসনিক ব্যয় এবং শিল্পাঞ্চল গঠনে ব্যবহার করা হবে।

সরকারের অবস্থান

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি জানান, প্রকল্পটি বর্তমানে নীতিগত পর্যায়ে রয়েছে। চুক্তি সম্পাদনের অনুমোদন দেওয়া হলেও বিনিয়োগের পরিমাণ, শিল্পের ধরন, অবকাঠামো পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্ভাব্য প্রভাব

সরকারের মতে, এই ধরনের সমন্বিত শিল্পাঞ্চল:

  • বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে
  • নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে
  • রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশ ঘটাবে
  • চট্টগ্রাম অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করবে

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়, বিনিয়োগের পরিমাণ ও শিল্পের ধরন এখনো নির্ধারিত হয়নি।