বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে নির্মাণ ত্রুটি, তদন্ত প্রতিবেদন শনিবার

প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে নির্মাণ ত্রুটির তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন শনিবার (৩০ মে) জমা দেওয়া হবে।

শুক্রবার (২৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত বুধবার (২৭ মে) সকালে হাসপাতালটির পোস্ট ডেলিভারি অপারেটিভ ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর নিহত শিশুদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। একই সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, ওয়ার্ডের পরিবেশ এবং রোগী নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার রাতে ওই ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও ছয় নবজাতক ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাতে ওয়ার্ডে অতিরিক্ত ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় এক মা দায়িত্বরত নার্সকে এসি বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন। পরে প্রায় এক ঘণ্টা এসি বন্ধ রাখা হয়। তবে কিছু সময় পর ওয়ার্ডে গরম অনুভূত হলে আবার এসি চালু করা হয়।

এর কিছুক্ষণ পর দুই নবজাতক অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে আরও কয়েকজন শিশুর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত সকালে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা দেয়, পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা এবং দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকার কারণে নবজাতকদের শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্বে অবহেলাকেই মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে অভিযোগ করছেন।

এদিকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে ওয়ার্ডের পরিবেশ, অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা, এয়ার সার্কুলেশন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং নির্মাণ কাঠামো খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছু নির্মাণসংক্রান্ত ত্রুটি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে ঠিক কী ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যু দেশের স্বাস্থ্যখাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে নবজাতক পরিচর্যা ব্যবস্থা, হাসপাতালের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা এবং পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় নির্ধারণে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।