বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

আদালতকে পাশ কাটিয়ে তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় লিগ্যাল নোটিশ

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ভুলবশত মুক্তিপ্রাপ্ত তিন আসামিকে পরবর্তীতে আইন লঙ্ঘনপূর্বক গ্রেপ্তার ও আদালতে হাজির না করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় যথাযথ নির্দেশনা ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য লিগ্যাল নোটিশ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইন সচিবকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ এবং ময়মনসিংহের ১ নং জি. আর আমলি আদালতের (অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) আদেশে প্রকাশ পায় যে, জি. আর–২৪১/২৫ (তারাকান্দা) মামলার তিন আসামি— জাকিরুল ইসলাম, রাশেদুল ইসলাম ও আনিছ মিয়া গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদালতের কোনো আদেশ বা জামিন ব্যতিরেকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ভুলবশত মুক্তি পান।

পরবর্তীতে জেল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে র‍্যাব-১৪, ময়মনসিংহ ওই তিন আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করলেও বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৩(২) অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ৬৭এ ধারায় নির্ধারিত বাধ্যতামূলক আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাদেরকে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির না করে সরাসরি কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী— গ্রেপ্তারের সময় মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট প্রস্তুত করা হয়নি, সাধারণ ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করা হয়নি, সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়নি এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়নি। যা সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন ও Due Process of Law-এর চরম লঙ্ঘনের শামিল।

ওই ঘটনাটি জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দোষী কর্মকর্তা ও দায়িত্ব অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে অদ্যাবধি কোনো স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি, যা বিচার বিভাগের মর্যাদা ও জনআস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। এ কারণে ওই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষী কর্মকর্তা ও দায়িত্ব অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে উপরোক্ত দাবিগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে উচ্চ আদালতে রিট করা হবে বলে নোটিশে বলা হয়েছে।