রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গভীর রাতে পরিচালিত এক গোপন অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে লালমনিরহাটের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমীকে। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে একটি আবাসিক বাসা থেকে তাকে আটক করে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি বিশেষ টিম।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন এই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তার অবস্থান ছিল অজানা। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমী লালমনিরহাটের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি সুপরিচিত নাম। তিনি শুধু সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্যই নন, বরং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি লালমনিরহাট জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন। আইন পেশাতেও তার ছিল শক্ত অবস্থান—লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দক্ষতার সঙ্গে।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। এসব মামলার তদন্তের স্বার্থেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করি এবং সফলভাবে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
এই গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা অভিযান হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
এদিকে, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে নানা প্রতিক্রিয়া আসছে।
পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে পুরো দেশ।