রবিবার , ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

আগামী মাসে পরীক্ষামূলক চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

 

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত ‘প্রবাসী কার্ড’ আগামী মাসের মাঝামাঝিতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে বিমানবন্দর, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, রেমিট্যান্স, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে অন্তত ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন প্রবাসীরা।

শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ক্ষমতায়ন এবং আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় আনতেই সরকার ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। ডুয়াল কারেন্সি সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এবার চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ড।

প্রবাসী কার্ডে যেসব সুবিধা মিলবে

প্রবাসী কার্ডধারীরা দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার, বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সুবিধা, বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে মূল্যছাড়, নির্ধারিত সেবার আওতায় গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য বিমানবন্দরে পিক-অ্যান্ড-ড্রপ সুবিধা পাবেন।

এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় মূল্যছাড়, কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনা, দেশে ফিরে পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা, জমি নিবন্ধন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

কার্ডের মাধ্যমে রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিংয়ের ভিত্তিতে ঋণ সুবিধা, সহজে অর্থ প্রেরণ ও ব্যাংকিং সেবা, পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবায় অগ্রাধিকারও দেওয়া হবে।

ধাপে ধাপে বিতরণ

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী মাসের মাঝামাঝিতে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রথম ধাপে জনতা ব্যাংক কার্ড ইস্যুর দায়িত্ব পালন করবে। পরবর্তী পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে কার্ডের সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

দক্ষতা উন্নয়নের নির্দেশ

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও সময়োপযোগী ও আধুনিক করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা যেন পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেন।

সভায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।