কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা, বিশৃঙ্খলা ও অপতৎপরতা প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযানে আওয়ামী লীগের ১৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২২ জুন) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় যৌথবাহিনীর টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও প্রবেশপথে স্থাপন করা হয়েছে একাধিক চেকপোস্ট।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ছয়টি ইউনিট নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকা ও জেলার পাঁচটি উপজেলায় টহল পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, জেলার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
এদিকে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে শহরে নিরাপত্তা মিছিল ও শোডাউন করেছেন জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।
যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, জেলাজুড়ে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।