বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করলে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য ‘তারাই’ দায়ী থাকবেন

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

যাদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে তারাই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তুলে হুঁশিয়ারী দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।তিনি বলেছেন, তারাই (বিজয়ী দল) যদি দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয় তাহলে দেশের জন্য সেটা হবে সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ দায় তাদেরকেই নিতে হবে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা একথা বলেন তিনি।মামুনুল হক বলেন, এই নির্বাচনে মানুষের ব্যাপক উৎসাহ এবং উদ্দীপনাসহ উপস্থিতিতে আমরা স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ স্থিতিশীল হবে সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

স্বাভাবিকভাবে স্থিতিশীলতার জন্য যাদেরকে এই মুহূর্তে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা যাদের প্রধান দায়িত্ব—তারাই যদি দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেয় তাহলে দেশের জন্য সেটা হবে সবচেয়ে হতাশাজনক।

তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে যদি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে সেখানে আমরা আনকম্প্রমাইজ থাকবো। আমরা কোনো নমনীয়তা এবং কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ জুলাই বিপ্লবের চেতনার ক্ষেত্রে আমরা করতে পারবো না। কাজেই সব মহলকে আমরা সেই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাচ্ছি।

নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, আমরা ইতিবাচকভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে চাচ্ছি। কিন্তু পরিষ্কার যে, একটা সময় পর্যন্ত ভোট গ্রহণ মোটামুটি দৃশ্যমান রাখা হয়েছে, কোনো গন্ডগোল যেন না হয়। কিন্তু ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই আমাদের কাছে একেবারেই দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট, ভোট গ্রহণটা যেভাবে হয়েছে ভোট গণনাটা তার সম্পূর্ণ উল্টোভাবে হয়েছে৷ সেখানেই আগামীর বাংলাদেশের ভাগ্য এবং মানুষের জনরায়ের প্রতি চরমভাবে অশ্রদ্ধা প্রদর্শন, অসম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে। এটা যারা করেছেন বাংলাদেশের কাছে তাদেরকে দায়ী থাকতে হবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, ইতিহাস বারবার ফিরে আসে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের এই ব্যালটের অধিকার অবশ্য তারা উদ্ধার করে ছাড়বে, ইনশাআল্লাহ। সেই প্রত্যয় আমরা ব্যক্ত করছি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি এটিএম মা’ছুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।