বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

“অল্প পানির মাছ বেশি পানিতে গেলে যেমন করে—তাদের অবস্থাও তাই: মির্জা আব্বাস”

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, “অল্প পানির মাছ বেশি পানিতে গেলে যেমন করে, তাদের অবস্থা এখন তেমন হয়ে গেছে। তারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করেছে, যেটা তাদের মুখে মানায় না।”

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলিস্তানের হল মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, “জনগণ জানে চুলার মুখ দিয়ে কখনো স্বর্ণ বের হয় না, ছাই বের হয়। আর স্বর্ণের খনি থেকে কখনো ছাই বের হয় না।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা যদি ভাবেন, মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে একটু কথা বললেই প্রচারণায় থাকা যায়—এর জন্য বহু রাস্তা আছে। দান-খয়রাত করেন, ভালোভাবে কথা বলেন। কিন্তু গালিগালাজ করে, অসভ্য ভাষায় কথা বলে নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না।”

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “আমি বরাবরই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। এটা নতুন কোনো বিষয় নয়। আমার বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশ থেকে যেসব কথা বলা হচ্ছে, এ দেশের মানুষ তা বিশ্বাস করবে না।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সকাল-সন্ধ্যা জামায়াতে ইসলামের একটি জুনিয়র গ্রুপ বিএনপি সম্পর্কে নোংরা কথাবার্তা বলছে। জামায়াতের শীর্ষ নেতারা আমাদের দেশের চাকরিজীবী নারীদের সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তাদের কথাবার্তা লাগামহীন হয়ে গেছে।”

কখনো কোনো সুযোগ-সুবিধা নেননি উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “যারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন, যদি বুকের পাটা থাকে তাহলে বায়তুল মোকাররমের সামনে আমার নামে সালিশ বসান। আমি চুরি-চামারি করে বড় হইনি, গায়ে খেটে বড় হয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “একজন মানুষের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা না করে বরং আপনারা কী করেছেন, কী করবেন—সেটা জনগণের সামনে তুলে ধরুন।”

মতবিনিময় সভায় ভোটারদের উদ্দেশ্যে মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচনের দিন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। পোলিং এজেন্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরিত রেজাল্ট শিট ছাড়া কেন্দ্র ত্যাগ করা যাবে না এবং ভোট গণনা কেন্দ্রের বাইরে নেওয়ার কোনো চেষ্টা মেনে নেওয়া যাবে না।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা শোনা যাচ্ছে। নব্য প্রার্থীদের কথাবার্তায় বোঝা যাচ্ছে, এমন চেষ্টা হতে পারে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই—জনগণ ভোটের অধিকার রক্ষায় প্রস্তুত।”