বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোকে নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যয় পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, বিভিন্ন খাতে ব্যয় আংশিকভাবে সীমিত এবং কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্থগিত করা হয়েছে। আপ্যায়ন ও দেশীয় প্রশিক্ষণ খাতে অব্যয়িত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। তবে সরকারি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে পরিচালিত প্রশিক্ষণ এ সীমার বাইরে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভ্রমণ খাতে অবশিষ্ট অর্থের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ব্যয় করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেমিনার ও কনফারেন্স খাতে ব্যয় করা যাবে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ, তবে এ খাতে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
সরকারি ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে সব ধরনের যানবাহন—মোটরযান, জলযান ও আকাশযান ক্রয় বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনার ব্যয়ও স্থগিত করা হয়েছে। পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় বন্ধ থাকবে, যদিও উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তা চালানো যেতে পারে।
অবকাঠামো খাতেও ব্যয় সীমিত করা হয়েছে। আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন নির্মাণে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। তবে কোনো প্রকল্পের কাজ ৭০ শতাংশ বা তার বেশি সম্পন্ন হয়ে থাকলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে বাকি কাজ চালানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শোভাবর্ধন খাতে ব্যয় ৫০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি কেনার সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম সুবিধাও স্থগিত করা হয়েছে, যা কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে সরকারের এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এর ফলে কিছু উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।