অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জনই নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে এক নারীসহ এই ৩৬ জন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সহযোগিতায় ব্র্যাকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে ফেরত আসা নাগরিকদের পরিবহনসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হয় বলে জানান ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান।
ফেরত আসা ৩৬ জনের মধ্যে নোয়াখালীর ২১ জন ছাড়াও লক্ষ্মীপুরের ২ জন এবং মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা, লালমনিরহাট, শরীয়তপুর, বরগুনা, ফেনী, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও নেত্রকোনা জেলার একজন করে রয়েছেন। এ নিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৩ জনে।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম সূত্রে জানা যায়, ফেরত আসা ব্যক্তিদের অধিকাংশই জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে প্রথমে বৈধভাবে ব্রাজিলে যান। পরে সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করলেও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তাদের প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন প্রশাসন।
ফেরত আসা নোয়াখালীর জাহিদুল ইসলাম জানান, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর আশায় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে যাওয়ার জন্য দালালদের হাতে প্রায় ৮০ লাখ টাকা তুলে দেন। তবে শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে। একইভাবে গাজীপুরের বাসিন্দা সুলতানা আক্তার জানান, ব্রাজিল হয়ে মেক্সিকো সীমান্ত পার হতে দালালদের তিনি প্রায় ৩০ লাখ টাকা দেন, যা পুরোপুরি বৃথা গেছে।
এ বিষয়ে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, অনেকেই ব্রাজিলে বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছেন। সরকার যখন ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেয়, তখন তারা প্রকৃতপক্ষে সেখানে কাজ করতে যাচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, একেকজন অভিবাসী ৪০ থেকে ৫৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করে বিদেশে গিয়ে শূন্য হাতে ফিরে আসছেন। এই ক্ষতির দায় সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের নিতে হবে। তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন।
ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে মোট ১ হাজার ৩২০ জন বাংলাদেশি ব্রাজিলে গেছেন, যার মধ্যে নোয়াখালীর বাসিন্দা ছিলেন ৯৫১ জন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের একটি বড় অংশ মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। এ অবস্থায় নতুন করে ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর আগে সরকারকে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের একাধিক দফায় নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। মার্কিন আইনে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী অভিবাসীদের আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশে প্রত্যাবাসন করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এ প্রক্রিয়া দ্রুত হওয়ায় চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটের ব্যবহারও বেড়েছে।