ঈদযাত্রাকে ঘিরে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেক যাত্রী। বিশেষ করে কম্পিউটারের দোকান থেকে অনলাইনে টিকিট কেটে পিডিএফ কপি নিয়ে আসা যাত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ জাল টিকিটের কারণে বিপাকে পড়ছেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের প্রবেশমুখ ও ট্রেনের ভেতরে টিকিট যাচাইয়ের সময় বেশ কয়েকজন যাত্রীর টিকিট জাল হিসেবে শনাক্ত করা হচ্ছে। এতে করে যাত্রীরা বিড়ম্বনায় পড়ছেন এবং অতিরিক্ত খরচে পুনরায় টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
সকালে রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে এমন একটি ঘটনা ঘটে। একই টিকিটের পিডিএফ কপি তিনজন যাত্রীর কাছে পাওয়া গেলে সিট নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। পরে যাচাই করে দেখা যায়, তাদের মধ্যে একজনের টিকিট বৈধ, অন্য দুজনের টিকিট জাল।
জাল টিকিটধারী এক যাত্রী জানান, তিনি কম্পিউটারের দোকান থেকেই টিকিট কেটেছিলেন এবং এটি জাল—সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা ছিল না। পরে তাকে আবার স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাত্রা করতে হয়েছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের জাল টিকিট শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের জরিমানা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে নতুন করে স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হচ্ছে। তবে আগের বছরের তুলনায় এ ধরনের ঘটনা কিছুটা কমেছে বলেও তারা দাবি করেন।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে। তিন স্তরের টিকিট চেকিং ব্যবস্থার ফলে বিনা টিকিটে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। স্টেশনের প্রবেশপথেই একাধিকবার টিকিট যাচাই করা হচ্ছে, যা যাত্রীদের সুশৃঙ্খলভাবে ট্রেনে উঠতে সহায়তা করছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছাড়া টিকিট না কেনার জন্য এবং নিজের টিকিট যাচাই করে নেওয়ার জন্য, যাতে প্রতারণার শিকার হয়ে ভোগান্তিতে না পড়তে হয়।