রাজধানীর শিশুদের মধ্যে অতিরিক্ত মোবাইল, টেলিভিশন, ট্যাব ও কম্পিউটার ব্যবহারের কারণে মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা, ঘুমের ঘাটতি এবং মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু নিয়মিত মাথাব্যথায় ভুগছে এবং অধিকাংশ শিশু আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি সময় ডিজিটাল স্ক্রিনে কাটাচ্ছে।
২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রাজধানীর ছয়টি স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ জন শিশুর ওপর গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এর মধ্যে তিনটি বাংলা মাধ্যম ও তিনটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ছিল। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি Journal of Medical Internet Research Human Factors–এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে চারজনের বেশি প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহার করে। গড়ে প্রতিটি শিশু দিনে প্রায় ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার ও গেমিং ডিভাইসে সময় কাটায়।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু চোখের সমস্যায় ভুগছে এবং প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু ঘন ঘন মাথাব্যথার অভিযোগ করেছে। যারা দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার করে, তাদের গড় ঘুমের সময় মাত্র ৭ দশমিক ৩ ঘণ্টা। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বয়সী শিশুদের প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।
এ ছাড়া প্রায় ১৪ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত। একই সঙ্গে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় দুইজন দুশ্চিন্তা, অতিচঞ্চলতা বা আচরণগত সমস্যায় ভুগছে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘসময় স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুদের ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয় এবং খেলাধুলা ও শারীরিক কর্মকাণ্ড কমে যায়। ফলে স্থূলতা, মনোযোগের ঘাটতি, চোখে চাপ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
গবেষণার প্রধান গবেষক ও আইসিডিডিআর,বি–এর অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ডা. শাহরিয়া হাফিজ কাকন বলেন, শিশুদের দেরিতে ঘুমানো, চোখে অস্বস্তি, খিটখিটে আচরণ, মনোযোগ কমে যাওয়া কিংবা বাইরের খেলাধুলায় অনীহা—এসব লক্ষণকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, স্কুলগামী শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন টাইম দিনে দুই ঘণ্টার মধ্যে সীমিত রাখার আহ্বান জানান।
শিশুদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে গবেষকরা অভিভাবকদের খেলাধুলা, শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম ও ডিভাইস-মুক্ত পারিবারিক সময় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি চোখের সুরক্ষায় ‘২০-২০-২০’ নিয়ম অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।