বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সময় ছিনতাইকারীদের ধাক্কায় প্রাণ গেল চালকের

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬

ফেনীতে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সময় ছিনতাইকারীদের ধাক্কায় চলন্ত গাড়ির নিচে পড়ে শান্ত কুমার সাহা (১৬) নামে এক চালক নিহত হয়েছেন।

রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শান্ত কুমার ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের হকদি গ্রামের কানু কুমার সাহার ছেলে।

নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ইফতারের আগ মুহূর্তে লালপোল মিয়াজি ফিলিং স্টেশনের সামনে একজন যাত্রীর মালামালসহ শান্তকে অটোরিকশা নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তারপর প্রায় আধাঘণ্টা পর ছিনতাইকারীরা তাকে মারধর করে মহাসড়কের পাশে একটি কালভার্টের নিচে ফেলে দেয়। সেখান থেকে উঠে শান্ত ছিনতাইকারীদের পেছনে ধাওয়া করলে তারা তাকে ধাক্কা দেয়। এতে শান্ত মহাসড়কে পড়ে গেলে চলন্ত একটি গাড়ির চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন। খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

শান্তর ফুফাতো ভাই বিপুল দাস বলেন, সন্ধ্যার দিকে পরিবারের লোকজন তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে এক পরিচিত অটোরিকশা চালকের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শান্তর মরদেহ দেখতে পাই। সে যেখান থেকে যাত্রী নিয়েছিল, সেখানকার আশপাশের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করলে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

শান্তর খালাতো বোন নিপা রানী দাস বলেন, ইফতারের আগ মুহূর্তে মিয়াজি ফিলিং স্টেশনের সামনে শান্তর সঙ্গে আমার দেখা হয়। আমি তাকে বাসায় পৌঁছে দিতে বললে সে জানায় তার ভাড়া আছে। তখন তার অটোরিকশায় কয়েকটি বস্তা ছিল। পাশে এক ব্যক্তিকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। আমার ধারণা, ইফতারের সময় নিরিবিলি পরিবেশের সুযোগ বুঝে তারা শান্তকে টার্গেট করে নিয়ে যায় এবং অটোরিকশা ছিনতাই করে।

ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। অটোরিকশা ছিনতাই ও মৃত্যুর ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।