বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

অটোরিকশার জন্য লাইসেন্স-রুট পারমিট প্রদানের দাবি সহ রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের ১২ দফা দাবি

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: রিকশা শ্রমিকদের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক দল-প্রার্থীদের অঙ্গীকার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় শ্রমিকরা অটোরিকশার জন্য লাইসেন্স-রুট পারমিট প্রদানের দাবি সহ মোট ১২ দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম, সংগঠক ফয়সাল হায়দার, এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি আব্দুল আলী প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে ফয়সাল হায়দার উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ রিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু সরকারের উদাসীনতা ও যৌক্তিক নীতিমালা না থাকায় শ্রমিকদের জীবন আজও নিরাপদ নয়। ফলে ৭০ লাখ শ্রমিক এবং তাদের পরিবারসহ দেশের প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন।”

তিনি আরও বলেন, রিকশা যান্ত্রিকীকরণ করে বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা প্রয়োজন, যা জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। বৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকেরই আছে। গণপরিবহনে বিদ্যুৎ ব্যবহার শ্রমিকদের কল্যাণে সহায়ক হবে এবং ব্যক্তিগত আরাম বা বিলাসিতার জন্য এটি ব্যবহার করা হবে না।

ফয়সাল হায়দার বলেন, ২০১২ সাল থেকে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্স প্রদানের দাবি করছেন। এছাড়াও দাবি করা হয়েছে, লাইসেন্স প্রদান না হওয়া পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত যানবাহন আটক বন্ধে নির্বাহী আদেশ জারি করতে হবে।

তিনি বলেন, “২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট প্রণীত অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যাদেশ বাতিল করে ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচলের নীতিমালা প্রণয়ন ও তদারকির পূর্ণ এখতিয়ার বিআরটিএর কাছে অর্পণ করা আবশ্যক। এছাড়া খসড়া নীতিমালা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়ন করতে হবে।”


রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের ১২ দফা দাবি:

১. আধুনিকায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ, দেশের সড়ক উপযোগী মডেলে আধুনিকায়নসহ বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্স-রুট পারমিট প্রদান এবং যৌক্তিক নীতিমালা প্রণয়ন।
২. ব্যাটারিচালিত যানবাহন চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও লাইসেন্স না দেওয়া পর্যন্ত যানবাহন আটক বন্ধে নির্বাহী আদেশ।
৩. এলাকাভিত্তিক জরিপের মাধ্যমে অটোরিকশার সংখ্যা ও মালিকানা নির্ধারণ, আনুপাতিক হার পদ্ধতিতে লাইসেন্স নিশ্চিত করা।
৪. সড়ক উপযোগী মডেল সকলের জন্য উন্মুক্ত করে আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত করা এবং বাহন বিনিময় নীতি শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নির্ধারণ।
৫. শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা কমিটি গঠন।
৬. ব্যাটারিচালিত যানবাহন শ্রমিকদের ওপর জুলুম, নির্যাতন ও চাঁদাবাজি বন্ধ ও অবৈধ টোকেন ব্যবস্থা প্রতিরোধ।
৭. ব্যাটারিচালিত যানবাহন গ্যারেজের ট্রেড লাইসেন্স প্রদান।
৮. বিভিন্ন রাস্তায় চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সার্ভিস লেন নির্মাণ, বাস্তবসম্মত রাস্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিকায়ন।
৯. নিত্যপণ্যের ভ্যাট কমানো, শ্রমিকদের জন্য রেশন, বিনামূল্যে চিকিৎসা, সন্তান শিক্ষার নিশ্চয়তা, সর্বজনীন পেনশন স্কিম।
১০. ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে গণপরিবহন হিসেবে শিল্পের স্বীকৃতি, সরকারি সহায়তা ও ঋণ সুবিধা।
১১. ‘জীবিকা সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন, ব্যাটারিচালিত যানবাহন সংক্রান্ত সকল রিট দ্রুত নিষ্পত্তি।
১২. শ্রমিকদের নাগরিক অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের পুঁজিকে নিরাপদ করে প্যাডেলচালিত যানবাহনের শ্রম থেকে মুক্ত করা।

সংক্ষেপে, রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন লাইসেন্স, নিরাপদ পরিবহন ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একশৃঙ্খল দাবির প্যাকেজ তুলে ধরেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই দাবিগুলো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান।