বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

অচ্যুতানন্দ ব্রক্ষচারীর ২৭তম তিরোধান উৎসবে পুণ্যার্থীদের ঢল

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা আর পুণ্যলাভের আশার মধ্য দিয়ে ভোলার তজুমদ্দিনে চলছে প্রভুপাদ শ্রী অচ্যুতানন্দ ব্রক্ষচারীর (অনিল বাবাজি) ২৭তম তিরোধান উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে সেখানে ভক্ত-পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে।

উপজেলার চাঁদপুর ও সম্ভুপুর ইউনিয়সহ দুই ইউনিয়নে গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) অধিবাসের মধ্য দিয়ে ৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচনা হয়েছে। যা চলবে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকাকে নান্দনিক রূপে সাজানো হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই পুণ্যার্থীদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে মন্দির প্রাঙ্গণ।

আয়োজকরা জানান, উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের আড়ালিয়া ও সম্ভুপুর ব্রক্ষচারীর জন্ম এবং ‘সমাধি মন্দিরে’ তিরোধান উৎসব উপলক্ষ্যে ৪০ প্রহরব্যাপী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান রয়েছে। দেশের বিভিন্ন কিত্তনীয় দল এ যজ্ঞানুষ্ঠান পরিবেশন করছেন। ভক্তদের জন্য নান্দনিক দৃষ্টিনন্দন বৃন্দাবন নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে চার যুগের নিদর্শনস্বরুপ ‘সত্য, দাপর, কলি ও ত্রেতা’ শতাধিক বিগ্রহের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। ভক্তরা প্রার্থনা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। একইসঙ্গে সম্ভুপুর মন্দিরেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিরোধান উৎসব, সেখানেও ঢল নেমেছে পুণ্যার্থীদের।

পুণ্যলাভের আশায় স্বপরিবারে আসা অরবিন্দ দেবনাথ, সুমন দাস ও সহদেব কর্মকার বলেন, প্রতিবছর প্রভুপাদ শ্রী অনিল বাবাজির তিরোধান উৎসব আমরা পরিবার নিয়ে আসি, এবারও এসেছি। পরিবার নিয়ে পুরো এলাকা ঘুরেছি, বাচ্চারাও বেশ আনন্দ পেয়েছে এবং আমরা সবাই পুণ্যলাভের আশায় প্রার্থনা করেছি।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপ‌তি অর‌বিন্দ দে বলেন, এখানে অনিল বাবাজির মূল সমাধি মন্দিরে ২৭তম তিরোধান উৎসবে সারাদেশের মধ্যে অন্যতম একটি বৃহৎ উৎসব হচ্ছে। আশা করি, প্রতি বছরের মতো এবারও দেশ ও দেশের বাইরের লাখো ভক্তের আগমন ঘটবে। আগত ভক্তদের জন্য প্রতিদিন প্রসাদ বিতরণসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলার পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, পুলিশ কাজ করছে।