বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

অক্ষ্যের আত্মত্যাগে জেগেছে অশোক শর্মার আইপিএল ধূমকেতু

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

বাড়ির সামনে বারান্দার মতো জায়গায় দুই ভাইয়ের ক্রিকেট অনুশীলন দিয়ে শুরু হয়েছিল অশোক শর্মার ক্রিকেট যাত্রা। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বড় ভাই অক্ষয় শর্মা দীর্ঘ সময় খেলতে পারেননি। পত্রিকা বিক্রেতা বাবার কাঁধে পুরো সংসার নির্ভর করায় তিনি বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করে ছোট ভাই অশোককে এগিয়ে দেন।

শৈশবে অক্ষয়কে লক্ষ্য করে বল করা শুরু করেন অশোক। অক্ষয় বলেন, “আমি তাকে দ্রুতগতির বল করে আঘাত করতাম। প্রতিশোধ নিতে সে দ্রুত বল করতে শুরু করে। তখন ভাবিনি সে এত ভালো হয়ে উঠবে।” স্কুল ক্রিকেটে অশোকের দ্রুতগতির বল এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা ভয়ে স্টাম্প ছেড়ে দূরে সরে যেতেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, অশোকের এই গতিবেগ কোনো কোচের নির্দেশে নয়, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত চেষ্টার ফল। স্কুল ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স তাকে আইপিএলে নেয়ার পথ সুগম করে। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে গুজরাট টাইটান্সের হয়ে অশোক ১৫৪.২ কিলোমিটার গতির বল করে দর্শকদের মাতিয়েছেন।

অশোকের ক্রিকেট যাত্রার নেপথ্যে ছিল পরিবার ও আর্থিক সংগ্রাম। রামপুরা থেকে জয়পুর প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে অনুশীলন করতেন অশোক। করোনার সময় তার অনুশীলন ব্যাহত হলেও বড় ভাই অক্ষয় একাডেমি পরিচালনা চালিয়ে দিতেন। ২০১৯ সালে রাজস্থান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সুযোগ পেলেও করোনা ও কোচের মৃত্যুর কারণে অশোকের পথ কঠিন হয়ে ওঠে।

অশোক ২০২২ সালে প্রথম কলকাতা নাইট রাইডার্সের ডাকে আইপিএলে সুযোগ পান। পরবর্তীতে রাজস্থান রয়্যালসে নাম লেখালেও ম্যাচ খেলার সুযোগ সীমিত ছিল। এবার গুজরাট টাইটান্সের হয়ে বোলিংয়ে গতির ঝড় দেখিয়ে অশোক ক্রিকেট ভক্তদের নজর কাড়েছেন।

অক্ষয় শর্মা আশা প্রকাশ করেছেন, “অশোক যেন কম্পিউটারের মতো প্রতিটি বল নির্ভুল করতে পারে। লক্ষ্য বড়—জাতীয় দলের নীল জার্সি।” ২৩ বছর বয়সী এই পেসারকে ভবিষ্যতে ভারতীয় দলের হয়ে আরও বড় পারফরম্যান্স করতে হবে বলে মনে করছেন তার পরিবার।

সর্বশেষ সৈয়দ মুসতাক আলি ট্রফিতে ৭ ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছিলেন অশোক। গুজরাট তাকে দলে নিয়েছে ৯০ লাখ রুপিতে। পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে তার বোলিং দেখে গুজরাট অধিনায়ক শুভমান গিল মন্তব্য করেছেন, “অশোক খুবই মূল্যবান। তবে আরও উন্নতির সুযোগ আছে।