মিয়ানমারের কারাবন্দি গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির বর্তমান অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার ছেলে কিম এরিস। তিনি সু চি বেঁচে আছেন কি না, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) এক চিঠিতে তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছে এ বিষয়ে সহায়তা চান। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মায়ের কোনো নির্ভরযোগ্য ছবি, বার্তা বা অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমারের নোবেল বিজয়ী এই নেত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর গত সপ্তাহে জান্তা সরকার তাকে গৃহবন্দি অবস্থায় স্থানান্তরের ঘোষণা দেয়।
তবে কিম এরিস অভিযোগ করেন, এই ঘোষণার পরও তিনি মায়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমরা নিশ্চিত নই তিনি সত্যিই কোথায় আছেন বা তার শারীরিক অবস্থা কেমন।”
ফরাসি আইনজীবী ফ্রাঁসোয়া জিমেরে জানান, ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কিম এরিস একটি চিঠি হস্তান্তর করেন, যেখানে সু চির মৌলিক অধিকার—চিকিৎসা, আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জান্তা সরকারের প্রকাশিত একটি ছবির সত্যতা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। ছবিটি আসল নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মানবাধিকার আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, সু চিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ গোপন অবস্থায় রাখা হয়েছে, যা তার নিরাপত্তা ও জীবিত থাকা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।