১২০ টাকা খরচ করে বগুড়ায় পুলিশ কনস্টেল পদে চাকরি পেলন  ৯৪ জন ৮০ জন পুরুষ এবং নারী প্রার্থী ১৪

post top

 ১২০ টাকা খরচ করে বগুড়ায় পুলিশ কনস্টেল পদে চাকরি পেলন  ৯৪ জন  নারী-পুরুষ । বুধবার রাত ১০ টায় বগুড়া পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে কনস্টেবল পদে ফলাফল ঘোষণা করেন বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী। নাম ঘোষণার পর  সমবেত নতুন নিয়োগ পাওয়া নারী-পুরুষের জয় বাংলা ধ্বনীতে পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়াম প্রকম্পিত করে তোলেন।

কনস্টেবল পদে এবছর শারীরিক ও মেধা অনুসারে উত্তীর্ণ হন ৯৪ জন। এর মধ্যে ৮০ জন পুরুষ এবং নারী প্রার্থী ১৪ জন। অবৈধ লেনদেন ছাড়াই নিজেদের মেধা ও শারীরিক যোগ্যতার ভিত্তিতে ১২০ টাকা খরচ করে কৃতকার্য হন। ১২০ টাকার মধ্যে আছে ১০০ টাকার ব্যংক  ড্রাফটও ২০ টাকা মোবাইলে এসএমএস খরচ।

বুধবার রাতে তাৎক্ষণিক  প্রতিক্রয়ায় বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, “মাত্র ১২০ টাকা খরচ করে এ ৯৪ জন চাকরি নামের সোনার হরিণের দেখা পেল। যারা শুধু মাত্র শারীরিক এবং মেধার যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দালাল ও প্রতারক চক্রকে দমন করার চেষ্টা করেছি এবং সক্ষম হয়েছি। সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে নিয়োগ পরীক্ষা আমরা সম্পন্ন হয়েছে । ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ড. বেনজির আহমেদ যে মিশনটি নিয়েছিলেন তা শতভাগ সচ্ছতার মধ্য দিয়ে পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে।

 

 জেলা পুলিশ সুপার জানান ,গত ২৯ মার্চ মাত্র একশ টাকা ব্যাংক ড্রাফট করে বগুড়া পুলিশ লাইনে  ৩ হাজার ২৬০ জন ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন ধাপ শেষ করে ৯২৫ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে  ২৫৬ পাস করেন। এরপর মৌখিক পরীক্ষা শেষে ৮০ জন পুরুষকে চূড়ান্ত এবং ১৪ জন নারীকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করে ফল প্রকাশ করা হয়।

মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হওয়া পুরুষদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন শিবগঞ্জের কিচক এলাকার কৃষক হারুন অর রশিদের ছেলে রাব্বী হাসান। তিনিবলেন, “গত বছর এ সময়ে আমি এ পদে পরীক্ষা দিয়ে বাদ পড়েছিলাম। কিন্তু এবার আমার মধ্যে জেদ চাপে এবার আমি উত্তীর্ণ হবো। আমার বাবা একজন কৃষক। এ চাকরির মাধ্যমে আমার বাবা– মা এবং প্রতিবন্ধী বোন ও ছোট ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি।“

নারীদের মধ্যে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন সুমাইয়া আক্তার আবেগ ভরা কন্ঠে বলেন, “আমার বাবা একজন প্রতিবন্ধী। তিনি কাজ করতে পারেন না। আমাদের অভাবের সংসার। ছোট ভাই পড়াশুনা করলেও অভাবের কারণে সে পড়াশুনা ছেড়ে রাজমিস্ত্রীর কাজ করে সংসার চালায়। আজকে এ অভাবের মধ্য দিয়ে কঠিন মনোবল নিয়ে  পড়াশুনা করে আমি সফল হয়েছি। ১২০ টাকায় যে চাকরি হতে পারে তিনি তা বিশ^াস করতে পারেননি।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দার চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুররশিদ, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম, নওগাঁ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবতাবউদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজল ই খুদাসহ জেলার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা।

print

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − 8 =