সংবাদ সম্মেলন করে সব কিছু জানানো হবে: জেনারেল আজিজ আহমেদ

post top

স্টাফ রিপোর্টার: পারিবারিক সংবাদ সম্মেলন করে আল জাজিরার প্রতিবেদন ও বিভিন্ন অপপ্রচার বিষয়ে সব কিছু জানানো হবে বলে জানিয়েছেন সেনা প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। মঙ্গলবার সকালে আর্মি এভিয়েশনের বেসিক কোর্সের অ্যাওয়ার্ড সেরেমনি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা বলেন তিনি। জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, আমার ভাইদের সম্পর্কে যে অপপ্রচারগুলো এসেছে সেটার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া আছে এবং খুব শিগগিরই আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের সংবাদ সম্মেলন করে সব কিছু জানানো হবে। এক প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, আমার ভাইয়ের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় যখন দেখা করেছি- তখন তার নামে কোনো মামলা ছিল না। যে একটা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ছিল সেটা থেকে অলরেডি অব্যাহতিপ্রাপ্ত ছিল। সে অব্যাহতি মার্চ মাসে হয়েছিল। আমি এপ্রিল মাসে গিয়েছিলাম।

এখানে আল জাজিরা যে স্টেটমেন্ট দিয়েছিল সেটা সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশে দিয়েছে। কারণ সেদিন আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে না কোনো সাজা ছিল, না তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল। তার আগেই তাদের বিরুদ্ধে যে মামলা ছিল সেটা থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। আজিজ আহমেদ বলেন, আমি আপনাকে প্রশ্ন করি, আপনার বিরুদ্ধে মামলা আছে, সাজা আছে। কিন্তু আপনি যদি গতকাল সে সাজা যদি অব্যাহতি পেয়ে থাকেন, আপনার বিরুদ্ধে যদি আর কোনো মামলা রানিং না থাকে আপনাকে কি ফিউজিটিভ (পলাতক) বলা যাবে আজকে। আপনাকে কি বলা যাবে আপনি সাজাপ্রাপ্ত। কারণ যখন আপনি অব্যাহতি পেয়ে যান কোন একটা চার্জ থেকে, তার পরের দিন থেকে আপনি যেকোনো মুক্ত একটা নাগরিকের মতো। সেনাপ্রধান বলেন, এতটুকুই আমি আপনাদের বলতে পারি- আমি সেনাপ্রধান হিসেবে সেনা বাহিনীর ভাবমূর্তি, আমার অবস্থান, আমার দায়িত্ব সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ সচেতন।

কি করলে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হতে পারে, কী করলে সেনাবাহিনীর, আমার যে দায়িত্ববোধ, আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। অপর এক প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, বিভিন্ন সময় আমার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সময় আমার যে চিত্র ধারণ করা হয়েছে আমি সেনাপ্রধান হিসেবে মনে করি আমি যখন অফিসিয়াল ক্যাপাসিটিতে কোথাও থাকবো তখন আমার নিরাপত্তা সেটা অফিসিয়ালি নিশ্চিত করা হয়। আমি যেখানেই হোস্ট কান্ট্রি করে থাকে। সেখানে আমরা অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। কিন্তু যখন আমি কোথাও আমার ব্যক্তিগত সফরে থাকি তখন অফিসিয়াল প্রটোকল ব্যবহার করা আমি সমীচিন মনে করি না। আমি মনে করি সেটা অপচয়। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, আপনারা প্রশ্ন করেছেন বারবার কেন আমাকে টার্গেট করা হয়। আমার মনে হয় সেটা দায়িত্ব আপনাদের ওপর ছেড়ে দিলাম। আপনারাই বুঝে নেন, খুঁজে নেন। কেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধানকে টার্গেট করা হচ্ছে। কারণ এই সেনাপ্রধানকে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন।

সেনাপ্রধানকে হেয়প্রতিপন্ন করা মানে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হেয়প্রতিপন্ন করা। আপনাদের এই জিনিসটা বুঝতে হবে। নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন আছেন জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, আমি সম্পূর্ণভাবে সচেতন যে আমার কারণে যদি কখনো আমার ইনস্টিটিউশন, অর্গানাইজেশন যেটা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং আমাদের সরকার যাতে কোনোভাবে বিব্রত না হয়, বিতর্কিত না হয় আমি সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ সচেতন। যা কিছু আপনারা শুনছেন, এগুলোর কোনো প্রমাণ- এগুলো হয়তো তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে কাটপিস, অন্যান্য জিনিস সন্নিবেশিত করে তারা এগুলো করতেই পারবে। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য হাসিল হবে না।

সেটা আপনারা আপনাদের কলমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে তাদের জবাব দিয়েছেন। সে জন্য আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। প্রতিবেদনের সঙ্গে বাংলাদেশের যারা যুক্ত ছিল তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জেনারেল আজিজ বলেন, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে তেমন কিছু করার হয়তো থাকবে না। আমি নিশ্চিত সেটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সংস্থা যারা আছে তারা হয়তো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। জেনারেল আজিজ বলেন, আমাদের চেইন অব কমান্ডে যারা আছে এ ব্যাপারে আমরা সবাই সর্তক আছি।

আমি আশ্বাস দিতে চাই আপনাদের- এই ধরনের অপপ্রচার সেনাবাহিনীতে বিন্দুমাত্র আঁচ আনতে পারবে না আমাদের চেইন অব কমান্ডে। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বাংলাদেশের সংবিধানকে সমুন্নত রাখার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ, বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুগত। বাংলাদেশ সরকারের, বর্তমান সরকারের যেকোনো আদেশ নির্দেশ পালনে সদা প্রস্তুত। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ হোক, বহির্বিশ্বের হোক, যেকোনো সমস্যা মোকাবিলার জন্য আমরা সাংবিধানিকভাবে শপথবদ্ধ। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। অপপ্রচার সেনা সদস্যরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, যে ধরনের অপচেষ্টাগুলো হচ্ছে, এগুলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মতো প্রতিষ্ঠান, যেটা হলো জাতির গর্ব, দেশের গর্ব সেই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে তারা নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে যাতে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

আপনাদের আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই- সেনাবাহিনী একটি অত্যন্ত প্রশিক্ষিত এবং ওয়েল মোটিভেটেড ফোর্স; আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত। সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড অত্যন্ত ইফেক্টিভ এবং সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য ঘৃণাভরে এ ধরনের অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে অতীতে, এখনো করছে। বর্তমানে যা আছে তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছে।

print

Share this post

post bottom

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve + 10 =