শামীম বিধ্বংসী ইনিংসের পরও জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে ২৩ রানে

post top

প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় জিম্বাবুয়ে সফরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সবগুলো ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিল বাংলাদেশ দল। সে পথে ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিল টাইগাররা। একমাত্র টেস্ট জয়ের পর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সবগুলো ম্যাচ জেতে সফরকারীরা। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটাও হয়েছিল জয় দিয়ে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে খেই হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অভিষিক্ত শামীম পাটোয়ারীর বিধ্বংসী ইনিংসের পরও জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে ২৩ রানে।  

হারারের স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আজ (শুক্রবার) আগে ব্যাট করে বাংলাদেশকে ১৬৭ রানের লক্ষ্য দেয় জিম্বাবুয়ে। জবাব দিতে নেমে টাইগারদের ইনিংস থামে ১৪৩ রানে। এতে ২৩ রানের জয় পায় স্বাগতিকরা। এতে দুই দলের পূর্ণাঙ্গ সিরিজে প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পেল জিম্বাবুয়ে। সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের আশা সিরিজ বাঁচিয়ে রাখল সিকান্দার রাজারা। 

বাংলাদেশের হারের ম্যাচে আলো ছড়ালেন অভিষেকের স্বাদ পাওয়া শামীম পাটোয়ারী। কেন তাকে নিয়ে এতো আলোচনা, কিছুটা হলেও বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন ১৩ বলে ২৯ রানের ক্যামিওতে। ২২২ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসে চার মারেন ৩টি, ছক্কা ২টি। যার সবগুলোই ছিল দর্শনীয়। যখন ক্রিজে এলেন, তখন জয়ের জন্য ৫২ বলে প্রয়োজন ৯৯ রান। যখন আউট হলেন, তখন দলের প্রয়োজন ২৯ বলে ৫৮ রান। হারতে বসা ম্যাচেও প্রাণ ফিরিয়েছিলেন শামীম। শেষপর্যন্ত বাকিদের ব্যর্থতায় হার নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

ব্যর্থতার শুরুটা হয় নাঈম শেখ আর সৌম্য সরকারকে দিয়ে। ১৬৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে চাপ সইতে পারেননি দুজন। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ওপেনার নাঈমকে (৫) নিজের প্রথম শিকারে পরিণত করেন জিম্বাবুইয়ান পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি। একই ওভারে ২ বল বাদেই সৌম্যর (৮) উইকেট তুলে নেন তিনি। ব্যর্থতার খাতায় নাম তোলেন সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, শেখ মেহেদী হাসান, নুরুল হাসান সোহানরা।

বাংলাসেশের ইনিংসের সপ্তম ওভারে ১২ রান করা সাকিবকে ফেরান ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। নিজের পরের ওভার করতে এসে মাহমুদউল্লাহ ও মেহেদী হাসানকে তুলে নেন তিনি। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ আউট হন ৪ রান করে। ১৫ রান আসে মেহেদীর ব্যাট থেকে। এরপর দৃশ্যপটে আসেন তেন্ডাই চাতারা। সোহানকে থামান ৯ রানে। আফিফ হোসেনকে ২৪ রানের বেশি করতে দেননি এই পেসার। আফিফ আউট হওয়ার আগে অবশ্য শামীমের ক্যামিও দেখতে পায় সমর্থকরা।

পরে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি তাতে। এতে হারের ব্যবধান কমে শুধু। সাইফউদ্দিন থামেন ব্যক্তিগত ১৯ রানে। অলআউট হয়ে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৪৩ রানে। এতে ২৩ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জিম্বাবুয়ে। 

এর আগে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। তবে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা। ৩ রানে থাকা মারুমানিকে ফেরান বাংলাদেশি স্পিনার শেখ মেহেদী। এরপর ওয়েসলে মাধেভেরে ও রেগিস চাকাভার ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় জিম্বাবুয়ে। তাদের পার্টনারশিপ থেকে আসে ২৮ রান।

ইনংসের ষষ্ঠ ওভারে নিজের প্রথম ওভার বল করতে এসে চাকাভাকে তুলে নেন সাকিব। শরিফুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১৪ রানে সাজঘরে ফেরেন চাকাভা। এরপর ডিওন মেয়ার্সকে নিয়ে দলীয় সংগ্রহ বাড়িয়ে নেন আরেক ওপেনার মাধেভেরে। তৃতীয় উইকেটে দুজনের ৫৫ রানের পার্টনারশিপের মধ্যে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে নিজের তৃতীয় ফিফটির স্বাদ পান মাধেভেরে। 

ইনিংসের ১৮তম ওভারে আউট হওয়ার আগে নিজের ৫৭ বলে ৭৩ রানের ইনিংসটি সাজান ৫টি চার আর ৩টি ছয়ের মারে। তার আগেই সাজঘরের পথ ধরা মেয়ার্সের ব্যাট থেকে আসে ২৬ রান। পরে রাজা ৪ রান করে আউট হলে স্বাগতিকদের বড় সংগ্রহের স্বপ্নে ফাটল ধরে। তবে সে শঙ্কা উবে যায় রায়ান বার্লের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে। বার্লের অপরাজিত ১৯ বলে ৩৪ রানের ইনিংসের সাহায্যে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে স্কোর বোর্ডে ১৬৬ রানের সংগ্রহ দাড় করে জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের হয়ে ৪ ওভার বল করে ৩৬ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন পেসার শরিফুল ইসলাম। এছাড়াও শেখ মেহেদী হাসান সাকিব আল হাসান ১টি করে উইকেট পান।

print

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six + twenty =