শক্তিশালী বিরোধী দল গড়তে হলে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

post top

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী, দল বা যারাই আছেন প্রতিদিন কীভাবে সরকার উৎখাত করবেন সেই চিন্তা-ভাবনা করেন, তাদেরকে কিন্তু এটা করতে হলে বা শক্তিশালী বিরোধী দল গড়তে হলে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষের বিশ্বাস-আস্থা অর্জন করতে হবে। 

রোববার (২ মে) প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র ও অসহায়

মানুষকে মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় এ কথা বলেন। 

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবসময় দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ আজকে ক্ষমতায়, আমাদের সবার চেষ্টা হচ্ছে কীভাবে আমরা এই মানুষের পাশে দাঁড়াব। আমরা সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সারা বিশ্ব করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। যখন সারা বিশ্ব আক্রান্ত তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসা-বাণিজ্য সব কিছুতে একটা ভাটা পড়ে গেছে। অর্থনৈতিকভাবে অনেক উন্নত দেশ হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের একটা ছোট ভুখণ্ডে অধিক জনসংখ্যা। এই জনসংখ্যাকে একদিকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেওয়া, অপরদিকে তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা, জীবন সচল রাখার ব্যবস্থা কীভাবে করা যায় আমরা সেই প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছি এবং সে কারণেই আমরা অসহায় বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। 

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা সেই জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন। আমরা সবসময় এটাই চাই যে মানুষকে কীভাবে সহযোগিতা করব। মানুষের পাশে দাঁড়াব এবং জাতির পিতা যেভাবে কাজ করতেন আমরা সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি। আপনারা জানেন যে চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র সবসময় চলে। সেই সময় আওয়ামী লীগের বহু লোককে হত্যা করেছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হত্যা করেছে। এমনকি মনুষ্য সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু কিন্তু কোনো কিছু লুকাননি। এত মানুষ মারা গেছে। তিনি কিন্তু প্রকাশ করেছেন এবং সাধ্যানুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। 

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন পার্লামেন্টে প্রশ্নটা তুললাম যে এতবড় একটা ঘূর্ণিঝড় হয়ে গেল সরকার কী করে? আমরা তখন বিরোধী দলে, বিএনপি ক্ষমতায়। বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া উঠে বললো, যত মানুষ মরার কথা ছিল তত মানুষ মরেনি। আমি উঠে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কত মানুষ মরলে আপনার তত মানুষ হবে। ঠিক একই রকমের ঘূর্ণিঝড় ৯৭ সালে হয়েছিল। আল্লাহ রহমতে একটা মানুষও মরেনি। 

তিনি বলেন, সবসময় দুর্গত মানুষের পাশে কিন্তু আওয়ামী লীগ আছে। আপনারা দেখেছেন, ধান কাটার অসুবিধা। আমরা ছাত্রলীগকে বলার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ এমনকি আওয়ামী লীগ প্রত্যেকেই কিন্তু এই করোনা মহামারিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসার জন্য অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া বা লাশ দাফন করা অথবা মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া, ধান কেটে কৃষকের ঘরে তুলে দেওয়া সব কাজে কে আছে এখন? আওয়ামী লীগ আছে। আমাদের সহযোগী সংগঠনের কর্মীরাই আছে এখন। 

শেখ হাসিনা বলেন, অন্যান্য কয়েকটা রাজনৈতিক দল, অনেকেই শক্তিশালী বিরোধী দল চায়। আমরাও বিরোধী দলে ছিলাম। আমরা বিরোধী দলে থাকতে সবসময় কোনো দুর্যোগ-দূর্বিপাকে সবার আগে আওয়ামী লীগ ছুটে যেত মানুষের পাশে। এটাই বিরোধী দলের কাজ। কিন্তু আজকে যারা বিরোধী দল বা যারা প্রতিদিন সরকার উৎখাতের জন্য বক্তৃতা-বিবৃতি, আন্দোলনের নামে পোড়াও-জ্বালাও করে যাচ্ছে দুর্যোগে মানুষের পাশে কোথায় তারা? কয়টা দুর্গত মানুষের মুখে তারা খাবার তুলে দিয়েছে? কয়টা মানুষের পাশে তারা দাঁড়িয়েছে? কয়টা মানুষের কাফনের কাপড় কিনে দিয়েছে? কেউ নেই।

তিনি বলেন, আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি, একটা মাত্র টেলিভিশন ছিল। আমি বেসরকারি খাতে প্রচুর টেলিভিশন করে দিয়েছি, রেডিও করে দিয়েছি। কয়েকটি মাত্র পত্রিকা ছিল। অনেকগুলো পত্রিকা হয়ে গেছে এবং তারা ঘরে বসে বসে বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। আর আমাদের কিছু বুদ্ধিজীবী আছেস। যখন তাদের বুদ্ধি খোলে এবং তারা পরামর্শ দেন তার আগেই কিন্তু সরকার, আওয়ামী লীগ এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে নেয়। 

শেখ হাসিনা বলেন, দেশটা আমাদের। এই দেশটা আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। আর রাজনীতি আমাদের জনগণের জন্য, জনগণের কল্যাণের জন্য। এই কথাটা কখনও আমরা ভুলি না। আর সেই কথা ভুলি না বলেই আজকে মানুষের জন্য কাজ করাটাই আমাদের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে মনে করি। এভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। 

তিনি বলেন, দেশের মানুষকে একটা অনুরোধ করব নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। অন্যকেও সুরক্ষিত করতে হবে। আমরা টিকা দিচ্ছি এবং আরও টিকা নিয়ে আসব। যত টাকা লাগে এ দেশের মানুষকে টিকা পৌঁছে দেব। আপনাদের সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার যেসব নির্দেশনা আমরা দিচ্ছি সেটা কিন্তু আপনারা দয়া করে একটু মেনে চলবেন। 

শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু আমরা আন্তঃজেলা যাতায়াত বন্ধ করেছি তাতে অনেক পরিবহন শ্রমিক তাদের অসুবিধা হচ্ছে। আমরা তাদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা এবং তাদের কিছু সহযোগিতার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। যেসব এলাকায় এখন করোনা নেই সেই জেলার ভেতরে যোগাযোগটা যেন করতে পারি সেই ব্যবস্থাটা থাকবে। করোনাভাইরাস যেসব জেলায় আছে সেখান থেকে আরেক জেলায় যেন যাতায়াতটা করতে না পারে, এটা যাতে ছড়াতে না পারে সারা বাংলাদেশে এ ব্যাপারে জনগণকেই সচেতন হতে হবে। আপনাদের দেখতে হবে, আপনারা নিজেরাই করবেন। সারা বাংলাদেশের মানুষকে আমি অনুরোধ করব আপনারা এই ব্যবস্থাটা করবেন। 

তিনি বলেন, সরকার এটা করে নাই, ওটা করে নাই, সরকারের সমালোচনা করছেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, নিজে কয়টা লোককে সাহায্য করেছেন, তার একটা হিসেব পত্রিকায় দিয়ে দেন, তাহলে মানুষের আস্থা পাবে, বিশ্বাস পাবে। সেটা হচ্ছে বাস্তবতা। যারা বিত্তশালী আছেন তাদেরকে বলব, জনগণের পাশে দাঁড়ান। জনগণকে সাহায্য দেন, জনগণের জন্য কাজ করেন। 

print

Share this post

post bottom

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − five =