‘লোহার সিন্দুক’ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বের হতে বললেন চুন্নু

post top

করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেককে হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করার আহবান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি লোহার সিন্দুক থেকে বের হন। হাসপাতালে যান। আমরা হাসপাতালে যাচ্ছি, এলাকায় যাচ্ছি মানুষের কাছে, আমাদেরওতো রোগ হতে পারে।

সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন মুজিবুল হক চুন্নু।

করোনাকালের এ সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন। জনপ্রতিনিধিরাও খোঁজখবর রাখছেন, প্রয়োজনে যাচ্ছেন- বিষয়টি উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে চুন্নু বলেন, ‘লোহার সিন্দুকে ঢুকে গেছেন। লোহার সিন্দুক থেকে বের হয়ে হাসপাতালে যান। ঢাকা মেডিকেলে যান রোগীর কাছে যান। ডাক্তার, নার্স তারা রাতদিন কাজ করছেন তাদের কাছে যান।

আপনি মাঝে মাঝে একটা বিবৃতি দেন এটা মানুষ গ্রহণ করছে না। দয়া করে রিস্ক নেন। আপনার দলের সংসদ সদস্যরা এলাকায় আছে অনেকে মাসের পর মাস। আমরা হাসপাতালে যাচ্ছি, এলাকায় যাচ্ছি মানুষের কাছে যাচ্ছি, আমাদেরওতো রোগ হতে পারে। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আপনি বের হন। এটা আমাদের অনুরোধ।’

মুজিবুল হক চুন্নু সংসদে আজ তার বক্তব্যে সংশোধনী প্রস্তাবের আগে দুই মিনিট সময় চেয়ে নেন একটি গল্প বলার জন্য। পরে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে চুন্নু বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের একটা পদের চাকরির জন্য অ্যাডভারটাইজমেন্ট (বিজ্ঞপ্তি) হয়েছে।

সেই পদের নাম হলো সফটওয়্যার ডেভেলপার। সেই পদে আবেদন করেছেন বিলগেটস ও জাকারবার্গ। দরখাস্ত করার পর যখন সিভি পাঠিয়েছেন ইন্টারভিউ হবে। বিলগেটস খুব বুদ্ধিমান। বাংলাদেশের সব পরিস্থিতি তিনি জানলেন।

তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো রবীদ্রনাথের জন্ম কোথায়, কবি নজরুল কে। ‘তিনি এটা পারলেন।’ জাকারবার্গ পারলেন না। বিলগেটসের চাকরি হলো। বিলগেটসকে সবাই ধরলো আপনি এত বর ধনী, আপনি কেন চাকরিতে গেলেন। বললো আমার একটা চাকরির স্বপ্ন ছিল।

কিন্তু চাকরি পাইনি দেখে আমি ব্যবসা করে এত পয়সা উপার্জন করেছি। এখন আমার সেই স্বপ্নের চাকরিটা পেয়েছি বাংলাদেশে।

তিনি সবার কাছে বিদায় নিয়ে যখন আসলেন তখন বিলগেটসকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করলো এয়ারপোর্টে। – আপনি এমন কি স্বপ্নের চাকরি বাংলাদেশে পেলেন যার জন্য যাচ্ছেন। বিষয়টা কি?

বিলগেটস বললো, ‘আমার চাকরি হলো এই যে,স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এমনই একটি ডিপার্টমেন্ট এখানে চারটি ওয়েবসাইট উন্নয়ন করতে ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা লেগেছে। পাঁচটা ডাটাবেজ তৈরি করতে ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা লেগেছে এবং পাঁচটি কম্পিউটার সফটওয়ারওয়ার তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা, যা পৃথিবীর মধ্যে সব চেয়ে বেশি খরচ। শুধু তাই নয়, যে ডিপার্টমেন্টের একজন কেরানি দেড়হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে যায়। এই চাকরি করলেতো আর কষ্ট করে ব্যবসা করতে হয় না। তাই আমি বিলগেটস ওই চাকরিতে জয়েন করার জন্য বাংলাদেশে যাচ্ছি।

print

Share this post

post bottom

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 5 =