মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংপর ভারতের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের গড়তে পারলো না স্বাগতিক বাংলাদেশ

post top

 স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুন্যের পর ভারতের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়তে পারলো না স্বাগতিক বাংলাদেশ। জয়ের প্রবল সম্ভাবনা জাগিয়েও ঢাকায় সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ৩ উইকেটে হেরেছে টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে ৬৩ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ।  এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিলো  ভারতীয় ক্রিকেট দল। 
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল শেষ বিকেলে দারুন বোলিংয়ে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশকে ঢাকা টেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন মিরাজ। তার ঘুর্ণিতে ১৪৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে ৪৫ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়েছিলো ভারত। ম্যাচ জিততে শেষ দু’দিনে ৬ উইকেট দরকার ছিলো বাংলাদেশের। জয় থেকে ১০০ রান দূরে ছিলো ভারত। 
চতুর্থ দিন দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ৩ রান নিয়ে দিন শুরু করে সাকিবের বলে লেগ বিফোর আউট হন নাইটওয়াচম্যান জয়দেব উনাদকত। দিনের প্রথম ওভারে ছক্কা হাঁকানো উনাদকত করেন ১৩ রান। 
ভারতের পঞ্চম উইকেট পতনে ব্যাট হাতে নামেন  প্রথম ইনিংসে ৯৩ রান করা ঋসভ পান্থ।  এবার ৯ রানেই  এলবিডব্লিউর  শিকার হন মিরাজের।  থামিয়ে দেন মিরাজ। 
পান্থের পর প্যাটেলকে শিকার করে ইনিংসে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন মিরাজ। ৩৭ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে নবম বারের মত ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেন তিনি। সর্বশেষ ২০২১ সালের জুলাইয়ে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মিরাজ। 
ব্যক্তিগত  ৩৪ রানে মিরাজের শিকার হন আগের দিন চার নম্বরে নামা প্যাটেল। ৬৯ বল খেলে ৪টি চার মরেন ২৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা ভারতীয় এ ব্যাটার। 
প্যাটেলের আউটে ৭৪ রানে সপ্তম উইকেট হারায় ভারত। এ সময় ৩ উইকেট হাতে নিয়ে জয় থেকে ৭১ রান দূরে ভারত। 
ভারতের শেষ ৩ উইকেট শিকার করে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। প্যাটেলের আউটে উইকেটে নতুন ব্যাটার রবীচন্দ্রন অশি^ন। ব্যক্তিগত ১ রানে মিরাজের বলে শর্ট লেগে অশি^নের ক্যাচ ফেলেন মোমিনুল। জীবন পেয়ে সাবধানী হয়ে পড়েন শ্রেয়াস আইয়ার-অশি^ন। ৬৮ বল পর বাউন্ডারি মারেন তারা।  
রোদ ওঠার সাথে-সাথে উইকেটও সহজ হতে থাকে। ব্যাট হাতে খোলস থেকে বের হন আইয়ার ও অশি^ন। ৪১ ও ৪২তম ওভারে সাকিব ও মিরাজকে তিনটি চার মারেন আইয়ার।
আইয়ারের ব্যাটিংয়ে উজ্জীবিত হয়ে ওঠা  অশি^ন ৪৩তম ওভারে এই ইনিংসে প্রথমবারের মত বল করতে আসা পেসার খালেদ আহমেদকে ২টি চার মারেন অশি^ন। এরমধ্যে গালিতে অশি^নের কঠিন ক্যাচ নিতে পারেননি লিটন।
অশি^ন-আইয়ারের আত্মবিশ^াসী ব্যাটিংয়ের জয়ের পথ সহজ হয় ভারতের। ৪৬ ওভার শেষে জয় থেকে ১৬ রান দূরে ছিলো ভারত। মিরাজের করা ঐ ওভারের প্রথম পাঁচ বলে ১টি করে চার-ছক্কায় ১২ রান নেন অশি^ন। আর শেষ বলে চার মেরে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন ভঙ্গ করেন অশি^ন। 
অষ্টম উইকেটে ১০৫ বলে অবিচ্ছিন্ন ৭১ রান যোগ করেন আইয়ার ও অশি^ন। ৪টি চারে ৪৬ বলে অপরাজিত ২৯ রান করেন আইয়ার। ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬২ বলে অনবদ্য ৪২ রান করেন অশি^ন। 
দারুন বোলিং করা মিরাজ ১৯ ওভারে ৬৩ রানে ৫ উইকেট নেন। ৫০ রানে ২ উইকেট নেন সাকিব। ম্যাচ সেরা হন ভারতের অশি^ন। সিরিজ সেরা হন পূজারা। 
স্কোর কার্ড : 
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ২২৭/১০, ৭৩.৫ ওভার। 
ভারত প্রথম ইনিংস : ৩১৪/১০, ৮৬.৩ ওভার 
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ২৩১/১০, ৭০.২ ওভার 
ভারত দ্বিতীয় ইনিংস (আগের দিন ৪৫/৪, ২৩ ওভার, প্যাটেল ২৬*, উনাদকত ৩*) : 
রাহুল ক নুরুল ব সাকিব ২
গিল  স্টাম্প নুরুল ব মিরাজ ৭
পূজারা স্টাম্প নুরুল ব মিরাজ ৬
প্যাটেল বোল্ড ব মিরাজ ৩৪
কোহলি ক মোমিনুল ব মিরাজ ১
উনাদকত এলবিডব্লু ব সাকিব ১৩
পান্থ এলবিডব্লু ব মিরাজ ৯
আইয়ার অপরাজিত ২৯
অশি^ন অপরাজিত ৪২
অতিরিক্ত (বা-১, লে বা-১) ২
মোট (৪৭ ওভার, ৭ উইকেট) ১৪৫
উইকেট পতন : ১/৩ (রাহুল), ২/১২ (পূজারা), ৩/২৯ (গিল), ৪/৩৭ (কোহলি), ৫/৫৬ (উনাদকত), ৬/৭১ (পান্থ), ৭/৭৪ (প্যাটেল)। 
বাংলাদেশ বোলিং :
সাকিব : ১৪-০-২১-১,
তাইজুল : ১১-৪-৮-০,
মিরাজ : ১৯-৩-২১-৩,
তাসকিন : ১-০-৪-০, 
তাসকিন : ২-০-১২-০।
ফল : ভারত ৩ উইকেটে জয়ী। 
ম্যাচ সেরা : রবীচন্দ্রন অশি^ন (ভারত)।
সিরিজ সেরা : চেতেশ^র পূজারা (ভারত)।

facebook sharing button
twitter sharing button
messenger sharing button
whatsapp sharing button
sharethis sharing button
print

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one + 1 =