পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে অপরাধ প্রতিরোধে অধঃস্তনদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলাম, বিপিএম (বার)।

post top

আজ সোমবার (১৮ এপ্রিল ২০২২) সকাল ১০:৩০ টায় ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে মার্চ ২০২২ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার।

 

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অধঃস্তনদের কমিশনার বলেন, “১৫ রোজা শেষ হয়ে গেছে। এখন মার্কেটগুলোতে ধীরে ধীরে ভিড় বাড়তে থাকবে। এ সময় মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টি বা টানা পার্টির তৎপরতা বেড়ে যায়। এজন্য থানার টহল পার্টিকে আরো সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রয়োজনে স্পেশাল টিম করে এদেরকে গ্রেফতার করতে হবে”।

শুধু পাহারা দিয়ে অপরাধ দমন করা যায় না, অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে অপরাধ প্রতিরোধ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ট্রাফিক ডিভিশনের উদ্দেশ্যে কমিশনার বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে যানজটের চাপ বেড়ে যায়। এজন্য প্রয়োজনে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার পুলিশের সাথে সমন্বয় করে ঢাকার প্রবেশ মুখগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে”।

ঢাকা মহানগরীর কোথাও কোন বড় ধরনের অঘটন না ঘটায় সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “ঈদের সময় প্রিয়জনের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য নগরবাসীর অনেকেই গ্রামের বাড়িতে যান। এ সময় তাদের বাসা-বাড়ি ফাঁকা থাকে। এ সময় যেন কোন ধরণের অঘটন না ঘটে এজন্য বাসাবাড়ির নিরাপত্তা প্রহরীদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে”।

প্রয়োজনে ঢাকা ত্যাগ করা নগরবাসীকে দামী স্বর্ণালংকার পার্শ্ববর্তী আত্মীয় স্বজনের নিকট রেখে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

মার্চ ২০২২ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৮টি ক্রাইম বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে তেজগাঁও বিভাগ ও শ্রেষ্ঠ থানা হয়েছে মোহাম্মদপুর থানা। তবে ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তি করে প্রথম হয়েছে উত্তরা বিভাগ। ডিএমপির ক্রাইম বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মুজিব আহম্মেদ পাটওয়ারী। পুলিশ পরিদর্শক তদন্তদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন বংশাল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মীর রেজাউল ইসলাম আর পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস্) দের মধ্যে প্রথম হয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস্) মোঃ তোফাজ্জল হোসেন।

শ্রেষ্ঠ এসআই যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন চকবাজার মডেল থানার এসআই প্রদীপ কুমার বিশ্বাস ও মিরপুর মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। শ্রেষ্ঠ এএসআই যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিমানবন্দর থানার এএসআই মোঃ মিকাইল মোল্লা ও মতিঝিল থানার এএসআই মোঃ হেলাল উদ্দিন। শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার হয়েছেন চকবাজার মডেল থানার এসআই প্রদীপ কুমার বিশ্বাস। অস্ত্র উদ্ধার করে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন ডেমরা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সন্তোষ বালা। বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন চকবাজার মডেল থানার এসআই প্রদীপ কুমার বিশ্বাস। মাদক উদ্ধার করে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন বিমানবন্দর থানার এএসআই মোঃ মিকাইল মোল্লা এবং চোরাই গাড়ি উদ্ধার করে প্রথম হয়েছেন গাবতলী বাস টার্মিনাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোঃ আবু জাফর তালুকদার মানিক।

৯টি গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ আবু আশরাফ সিদ্দিকী। অস্ত্র উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজিয়া ইসলাম। মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ আবু আশরাফ সিদ্দিকী। চোরাই গাড়ি উদ্ধার করে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান এবং অজ্ঞান/মলম পার্টি উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার নির্বাচিত হয়েছেন গোয়েন্দা রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফজলে এলাহী।

৮টি ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদপুর ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার কাজী হানিফুল ইসলাম। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) হয়েছেন যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক জোনের টিআই হোসেন জাকারিয়া মেনন। শ্রেষ্ঠ সার্জেন্ট/টিএসআই যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদপুর ট্রাফিক জোনের পুলিশ সার্জেন্ট আব্দুল কাদের ও ডেমরা ট্রাফিক জোনের পুলিশ সার্জেন্ট মোঃ কৌশিক মাহমুদ।

এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ১০টি বিভাগসহ ৫০ জন অফিসার এবং ফোর্সকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

প্রতি মাসে ঘটে যাওয়া অপরাধ বিশ্লেষণ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পরবর্তী কর্মপন্থা ও কর্মকৌশল সম্পর্কিত নির্দেশনার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের কর্মোদ্দীপনা বাড়াতে প্রতিমাসের কার্যক্রম পয়েন্ট আকারে যোগ করে পরবর্তী মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় পুরস্কৃত করে থাকেন ডিএমপি কমিশনার।

এসময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এ্যাডমিন) মীর রেজাউল আলম, বিপিএম-বার; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) কৃষ্ণ পদ রায় বিপিএম-বার, পিপিএম-বার; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স এন্ড প্রকিউরমেন্ট) ড. এ এফ এম মাসুম রব্বানী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) এ কে এম হাফিজ আক্তার বিপিএম-বার; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ মুনিবুর রহমান; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার(কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোঃ আসাদুজ্জামান বিপিএম-বার; বিভিন্ন যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-পুলিশ কমিশনারগণসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

print

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 4 =