নারী ও শিশু হাসপাতালে কমেছে সিজার সংখ্যা, বেড়েছে স্বাভাবিক প্রসবের হার ভিডিওসহ  

post top

মোঃ দিদারুল ইসলাম: সাভারের আশুলিয়ায় নারী ও শিশু নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে গত কয়েকবছর ধরে সিজার করে সন্তার প্রসবের প্রবনতা কমিয়ে আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০০০ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত গর্ভবতী নারীদের স্বাভাবিক প্রসবের গুরুত্ব ও সচেতনতা তৈরিসহ নানা পদক্ষেপের মধ্যে দিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের হার বৃদ্ধি করেছে।

 

হাসপাতালটির স্বাভাবিক প্রসব কর্যক্রমের এই সফলতা পাওয়ায় গত বছরের আগষ্টে পাশে দাঁড়িয়েছে ‘বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’। এ উদ্যোগের আওতায় আনায় ২০০০ সালে যেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের হার ৫৮%-৭৩% পর্যন্ত ছিল সেখানে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সেই হার দাঁড়িয়েছে ৩৭%-এ।

 

সোমবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় নারী ও শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী পরিচালক ড. দবির উদ্দিন আহমেদ, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক প্রোফেসর খোরশেদ তালুকদার, হাসপাতালটির গায়নী বিভাগের প্রধান প্রোফেসর ফেরদুসি বেগম ও প্রোফেসর আনজুম আরা।

 

২০১৮ সালের এক পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি টেনে তারা জানান, আন্তর্জাতিক মেডিকেল জার্নালের হিসেবে অন্যান্য দেশের তুলনায় দেশে সিজারিয়ান অপারেশনের হার ৬৭%। এটি নিয়মিত বেড়ে চলছে। কোনো সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ধরে নেয়া যায় চলতি বছরে এই হার ৮০%-এ দাঁড়িয়েছে। এদিকে এই হার কমিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতাল।

 

আরও জানান, ২০১৭ সালে ২০০০ ডেলিভারির মধ্যে সিজারিয়ান ডেলিভারির হার ছিল ৫৮%-৭৩% পর্যন্ত। এরপরে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে হাসপাতালের উদ্যোগে ১১টি ইটারভেনশান, প্রসূতি চিকিৎসক, নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও মায়েদের কাউন্সিলিং-এর মাধ্যমে সিজারিয়ান ডেলিভারির হার ২০১৬ সালের ৬৮% থেকে ২০১৮ সালে ৪২% এ নেমে আসে। এই পরিসংখ্যানে অনুপ্রাণিত হয় ‘বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’। পরে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু হাসপাতালকে প্রধান সহযোগী ও আরও ৭টি হাসপাতালকে যুক্ত করে ২০২১ সালের আগস্ট মাসে ২ বছর মেয়াদী একটি গবেষণা প্রকল্প চালু করা হয়।

 

হাসপাতালগুলো হল- আশুলিয়ার নারী ও শিশু কেন্দ্র হাসপাতাল (সিডব্লিউসিএইচ), ঢাকার মাতুয়াইলের শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (আইসিএমএইচ), কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (জেআইএমসিএইচ), টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কুমুদিনী মহিলা মেডিকেল কলেজ (কেডব্লিউএমসি), ঢাকার আজিমপুরের মেটারনাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ ইন্সটিটিউট (এমসিএইচটি), মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (এমইএসটিসি), মিরপুর-১ এর অবস্ট্রেট্রিকাল অ্যান্ড গাইনোকলজিকাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) হাসপাতাল-১ ও মিরপুর-১৩ এলাকার অবস্ট্রেট্রিকাল অ্যান্ড গাইনোকলজিকাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) হাসপাতাল-২।

 

এসব হাসপাতালে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন ১৩টি বিষয় নিয়ে প্রকল্প চলমান রেখেছে। প্রকল্পের আওতায় শুরুতেই প্রসূতি ডাক্তার ও নার্সদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও ১৩টি বিষয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সকল হাসপাতালে সিটিজি যন্ত্র, ডপলার ম্যাশিন, ভেন্টোজ ম্যাশিন, ম্যানিকুইন, লেবার বেড ও ওয়র্মারসহ স্বাভাবিক প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে।

 

গত এক বছর ধরেই স্বাভাবিক সন্তান প্রসবকে উৎসাহিত করার ফলাফলেরও দেখা মিলেছে। সহযোগী সকল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবনতা নিম্নমুখী দেখা যাচ্ছে। শুধু নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ২০২২ সালের হিসাবেই দেখা যায় সিজারিয়ান অপারেশনের হার বর্তমানে ৩৭%।

 

print

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight + two =