ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

post top

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, (ঢাকা):  ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১২ নভেম্বর) সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা।

২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের আবদুল্লাহপুর, আশুলিয়া, বাইপাইল এবং ইপিজেডকে যুক্ত করবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমেদ কায়কাউস। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের জন্য খসড়া ঋণ চুক্তির অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী। চীনা এক্সিম ব্যাংক এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের জন্য ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বা ১০ হাজার ২২৬ দশমিক ৫৩ কোটি টাকার ঋণের অনুমোদন দিয়েছে। মোট ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয়ের ৬৫ শতাংশ দেবে চীন। এই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারের জন্য যানবাহনগুলোকে টোল দিতে হবে।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, এই এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে দেশের ৩০ জেলার মানুষ দ্রুত ও সহজে রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হতে পারবে। এর মাধ্যমে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ০ দশমিক ২১ শতাংশ বাড়বে বলেও আশা করা হচ্ছে।

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে যাত্রাবাড়ী প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলছে। এখন সাভার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণ হলে উড়ালপথে সাভার থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ৪৪ কিলোমিটার পথ সংযুক্ত হবে। আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের লক্ষ্য হচ্ছে ঢাকার সঙ্গে ৩০টি জেলার সংযোগকারী আবদুল্লাহপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল-চন্দ্রা সড়কে যানজট কমানো।

এ পথ যেতে লাগবে এক ঘণ্টারও কম। রাজধানী ঢাকার যানজট এড়িয়ে উত্তরবঙ্গের সব ধরনের যানবাহন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠতে পারবে। এতে ঢাকার যানজট পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। উত্তর-দক্ষিণের কানেকটিভিটি অনেক বেড়ে যাবে। এই প্রকল্পে ১১ কিলোমিটারের একটি ঢালু অংশ থাকবে। ফ্লাইওভারের উভয় পাশে ১৪ দশমিক ২৮ কিলোমিটার চার লেনের সংযোগ সড়ক হবে।

২০১৭ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে যা মূলত ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। চীনের সাথে ঋণচুক্তি জটিলতায় ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ গত পাঁচ বছরেও এগোয়নি। সরকার এবং চীনের এক্সিম ব্যাংক ২০২১ সালের অক্টোবরে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য ১১০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। যদিও কাজ শুরুর আগেই শেষ হয়েছে মেয়াদ। তাই প্রকল্পটি সংশোধন করে আরও চার বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুনে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। সঙ্গে নির্মাণ ব্যয়ও বেড়েছে ৬৫০ কোটি টাকা। এখন প্রকল্প ব্যয় ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা থেকে ৬৫২ কোটি টাকা বেড়ে ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের পুরো ব্যয় চীনের বহন করার কথা থাকলেও দেশটির ঋণ নীতির পরিবর্তনের কারণে এখন মোট ব্যয়ের ৮৫ শতাংশ জোগান দিচ্ছে। জমি উন্নয়ন ও উপকরণ ক্রয়ের মতো কিছু প্রাক-নির্মাণ কাজ পূর্বে শুরু হয়েছিল। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের মূল নির্মাণ কাজ শুরু করলেন।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা বিমানবন্দর থেকে কুতুবখাল পয়েন্ট পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার জুড়ে চলবে। মোট ৪৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দুটি এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকা শহরের যানজটে সাধারণত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা যাত্রীদের সাশ্রয় করবে।

print

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − 2 =