টাকার বিনিময়ে পদ না দেওয়ার আহ্বান ছাত্রলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের

post top

সাভার,(ঢাকা): এবার বিতর্ক এড়াতে আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি টাকার বিনিময়ে কাউকে পদ না দিয়ে তৃণমূল থেকে যাচাই করে নেতা নির্বাচন করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের আওতাধীন আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) আশুলিয়ায় একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ঘন্টাব্যাপী ছাত্রলীগের তৃণমূল প্রতিনিধি সভার প্রথমদিনে এ আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিনিধি সভায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দাবি করেন, প্রকৃত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের আহ্বান জানান।
আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের কমিটি বাণিজ্যে কোটি টাকা লেনদেনের সমঝোতায় এক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতার নাম উঠে এসেছে। এতে দুই পক্ষের মুখোমুখি সংঘাতের আশঙ্কা করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
এর আগে ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের অন্তর্গত আশুলিয়া থানা শাখা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেন জেলা ছাত্রলীগ। সেখানে অর্থ বাণিজ্য করে সভাপতি হিসেবে স্থান পায় বিবাহিত এস এ শামীম ও হত্যা মামলার আসামী ফেরদৌস আহমেদ টিটু যা ইতিপূর্বেও গণমাধ্যমে উঠে আসে।
চলতি বছরের ২১ই জানুয়ারি সন্ধ্যা বেলা তার এলাকার ইলেকট্রিক মিস্ত্রী শাহজাদা খান মনাকে হত্যা করে সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ টিটু (৩০)। হত্যার পর আনন্দ মিছিল করে টিটুর বাহিনী। পরে নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন৷
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, আসামীরা ওই এলাকায় ক্লাব প্রতিষ্ঠা করে গান-বাজনা, নেশায় আসক্ত থাকে৷ আশেপাশের এলাকায় এতে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় সেদিন সন্ধ্যায় মনা তাদের অনুরোধ করতে গেলে তারা বেপোরায়া হয়ে মারধর করেন। মনাকে ঘটনাস্থল থেকে গনস্বাস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি করলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। ঘটনাটি বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে ২৮ জানুয়ারি জেলা ছাত্রলীগ দায় এড়াতে কমিটি বিলুপ্ত করে।
ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত দায় সাড়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা উত্তর শাখার অন্তর্গত আশুলিয়া থানা শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।
কমিটি বিলুপ্তির পর ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ছাত্রলীগকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এবং বর্তমান কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা জেলা (উত্তর) ছাত্রলীগের অন্তর্গত অন্যান্য কমিটিও পর্যায়ক্রমে ভেঙ্গে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
পরবর্তীতে সাংগঠনিকভাবে স্থবির হয়ে পড়া ঢাকা জেলার অন্তর্গত আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে ১২ সেপ্টেম্বর সভাপতি সাইদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনির স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদ প্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত আহ্বান করে জেলা ছাত্রলীগ।
বিজ্ঞপ্তিতে পথ প্রত্যাশীদের সময় বেঁধে দিয়ে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে  জীবন বৃত্তান্ত জমা দেয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়। পদ প্রত্যাশীদেরকে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মীর সাদ্দাম হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক রবিন খান, হান্নান সাকিব ও তৌহিদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার নির্দেশনা দেন ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগ।
আশুলিয়ায় আবারো পূর্বের বিতর্ক তৈরি করতে সরাসরি  ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য এর সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান সম্রাট।
এর কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপস্থিত তৃণমূলের সক্রিয় ছাত্রলীগ কর্মী ও পদ প্রত্যাশীরা জানান, সাইদুর রহমান সম্রাটের বাবার ঔরসজাত সন্তান ইমরান হোসেন ও ইয়াসিন আরাফাত পাপ্পু। তাদের মধ্যে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইমরান হোসেন। ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগ সভাপতি ও সম্পাদকের সঙ্গে তদবির নিয়ে শরণাপন্ন হচ্ছেন ইমরান হোসেন । কেন্দ্রের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি সাইদুর রহমান সম্রাট। আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের কমিটিতে আপন ভাইকে সভাপতি ও অনুগত তানভীর হোসেন কে সাধারণ সম্পাদক পদে বসাতে ততবীরকারী সাইদুর রহমান সম্রাট ও ইমরান হোসেন জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এ বাবদ কেন্দ্রেও কোটি টাকার লেনদেন করার অভিযোগ করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশুলিয়া থানার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এক আওয়ামীলীগ নেতার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আশুলিয়া ইউনিয়নের টঙ্গা বাড়ি এলাকার বির্তকিত ছাত্র নেতা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান সম্রাট কি করে কেন্দ্রে পদ পেয়েছে এ নিয়েই তো প্রশ্ন রয়েছে জনমনে। এর মধ্যে আবার বিতর্ক সৃষ্টি করে ছোট ভাই  ইয়াসিন আরাফাত পাপ্পু ও বাইপাইল এলাকার বিবাহিত ছাত্র নেতা তানভীর হোসেন কে আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বানাতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এতে সঠিক নেতৃত্বের মুল্যয়ন হবে না।
আওয়ামীলীগের এই নেতা আরও বলেন, শিল্প এলাকা আশুলিয়া  থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ  সম্পাদকের পদ নিতে মরিয়া তারা। একথা এখন সাভার ও আশুলিয়ার সকল নেতা কর্মীর মুখে  মুখে। পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে অনৈক্যের সৃষ্টি হয়েছে। কেও যেন টাকার বিনিময়ে ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ন পদে জায়গা না পায় সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
এনিয়ে জানতে চাইলে সাভার উপজেলার এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, জানতে পেরেছি ভাইয়ের পদ নিতে অর্থের যোগান দিচ্ছেন সম্রাট। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের সমালোচনা মুখে মুখে তারা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান সম্রাট সহ তাদের তিন ভাইয়ের সাভার ও আশুলিয়ায় কোনো রাজনৈতিক কর্মকান্ডের অস্তিত্ব নেই। তবুও তারা টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে রয়েছে। এখন আবার আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের কমিটিতে বড় পদের আশায় লাখ লাখ টাকা দিয়ে পদ নিতে চাচ্ছে। এদের সাভার আশুলিয়ার রাজনীতির সাথে তেমন কোনো সম্পর্ক নেই।
এরাই যদি হয় পদের মালিক তাহলে আমরা যারা বিএনপি জামায়াতের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করি তাহলে আমরা কি ঘরে বসে আজ্ঞুল চুষবো। আমরা টাকার বিনিময়ে পদ চাই না। সঠিক নেতৃত্বের মুল্যয়ন চাই।
এদিকে পথ প্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত জমা নেওয়া দায়িত্বশীল একটি সূত্র এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করে বলেন আমাদের চারজনের মাধ্যমে পদ প্রত্যাশীদের সিভি জমা নেওয়া হয়। মোট মিলিয়ে প্রায় দেড়শতাধিক নেতাকর্মী সিভি আহ্বান করেন। তাদের মধ্যে এই দুই নামের জীবন বৃত্তান্ত আমরা পাইনি। তবে বড় ভাইয়েরা সরাসরি জেলায় দিতে পারেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চেয়ে সাইদুর রহমান সম্রাটের মোবাইল ফোনে কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
টাকার বিনিময়ে পদ এবং বিবাহিত হওয়ার ব্যাপারে আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী তানভীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার বিয়ের ব্যাপারটি অস্বীকার করেন।
শোনা যাচ্ছে আশুলিয়া থানা কমিটির পদ নিয়ে বাণিজ্য হচ্ছে এমন প্রশ্নে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুল ইসলাম বলেন, এখনো কমিটি আহ্বানের জীবন বৃত্তান্ত যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। আগে গরুর বাছুর হোক তার পর না হয় নাম রাখা হবে। আপনি যা শুনেছেন তা সত্য নয়।  ছাত্রলীগের পদ যোগ্যদেরকেই  দেওয়া হবে বিতর্কিতদের নয়।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের মোবাইল ফোনে বার বার কল করা হলেও ফোনটি রিসিভ হয়নি।

print

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × three =