জাবিতে কোভিড পরীক্ষা চালুর দাবি, প্রতিদিন ৪০০ নমুনা পরীক্ষায় প্রস্তুত দুটি ল্যাব

post top

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এক কোটির বেশি। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বাংলাদেশে এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বারবার বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এর নমুনা পরীক্ষার বিকল্প নেই। কিছু দেশ দিনে লাখখানেক নমুনা পরীক্ষা করলেও বাংলাদেশে চিত্র ভিন্ন। প্রয়োজনীয় লোকবল, পরীক্ষার কিট আর ল্যাব স্বল্পতার কারণে দেশে এক দিনে ১৮ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষায় এগিয়ে আসে বাংলাদেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। তবে সক্ষমতা থাকা সত্বেও নমুনা পরীক্ষা করছে না জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সূত্র জানায়, উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের ইচ্ছা থাকলেও প্রভাবশালী শিক্ষকদের বাধার কারণে জাবিতে কোভিড পরীক্ষা চালু করা যায়নি। পরীক্ষা করলে ক্যাম্পাসে ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার অজুহাতে তা চালু করতে আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। এদিকে দুই জন শিক্ষক, তিনজন শিক্ষার্থী কর্মকর্তা কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীসহ বেশ কয়েকজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন অনেকেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ‘ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র এবং প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের’ ল্যাবে কভিড শনাক্তের পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই দুটি ল্যাবে অত্যাধুনিক আরটি-পিসিআর মেশিনে প্রতিদিন অন্তত ৪০০ নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ ল্যাবের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে প্রশাসনের কাছে আবেদনও জানিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আগ্রহ থাকলেও ক্যাম্পাসে বসবাসরত শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে প্রভাবশালী শিক্ষকদের বাধার কারণে কোভিড পরীক্ষা শুরু করা যায়নি। আর ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে মেশিন থাকলেও বায়োসেফটি কেবিনেট, প্রয়োজনীয় লোকবল নেই বলে জানিয়েছেন গবেষণাগারের পরিচালক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রভাবশালী শিক্ষক বলেন, মেশিন থাকলেই পরীক্ষা করতে হবে? ধরুন আমার বাসায় একটি মেশিন আছে, তাই বলে কি সেখানে পরীক্ষা শুরু করে দিতে হবে? আমাদের পরিবার এবং ক্যাম্পাসবাসীর নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে। এটা আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নয়। তাই এখানে এসব ঝামেলা না করাই ভালো।’

এদিকে জাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফসহ শিক্ষার্থীরা ও শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলো জাবিতে কোভিড পরীক্ষা চালুর দাবি জানিয়েছে। এ দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রলীগ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক এ এ মামুন বলেন, ‘শুধু ল্যাব প্রস্তুত করলেই তো হবে না। ল্যাবের সঙ্গে আমাদের প্রয়োজনীয় জনবল, অর্থনৈতিক সাপোর্ট লাগবে। আমাদের যাঁরা কাজ করবেন তাঁদের নিরাপত্তার বিষয় আছে। এগুলো সরকার আমাদের দিলে তবেই সম্ভব, অন্যান্য ল্যাবে যেমনটি দিয়েছে। এখানে আমরা নিজেরা নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব নিতে পারব না। কেননা নমুনা সংগ্রহ করতে গেলে আমাদের শিক্ষকরাও আক্রান্ত হবেন।’

প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, ‘আমরা কোভিড পরীক্ষার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। বিভাগে গ্র্যাজুয়েট বায়োকেমিস্ট ও মলিক্যুলার বায়োলজিস্টদের ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে আমরা দেশের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার জন্য অনুমতি দিচ্ছে না। কিন্তু এখন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। আইইডিসিআর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আমাদের এখানে নমুনা দিতে চেয়েছিল; আমরা সেটা নিয়ে আমাদের সেফটি কেবিনেটে নিয়ে আসতাম। আনার পথে সেখান থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর সুযোগ নেই।’

এবিষয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) আমির হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে দুই দিন আগেই সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা হয়েছে। আমরা পজিটিভলি চিন্তা করছি। শুরুর দিকে একটা ভয় ছিল, ক্যাম্পাসে কোভিড পরীক্ষা করলে এখানে যারা বসবাস করছে, তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে জন্য কিছুটা গড়িমসি ছিল। এখন সেটা নেই। ক্যাম্পাসে যদি পরীক্ষা না করা হয় তাহলে টেষ্টের মেশিনটা অন্য হাসপাতালে দিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে খুব দ্রুত ক্যাম্পাসে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা চালু করার জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন।

print

Share this post

post bottom

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 + fifteen =