জনপ্রিয় গণমাধ্যম কর্মী রাশেদ কাঞ্চনের জন্মদিন আজ

post top

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংবাদিক রাশেদ কাঞ্চন একজন জনপ্রিয় উপস্থাপক। বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের ময়দানে প্রথম সারিতে রিপোর্ট করার জন্য সর্বাধিক পরিচিত।

তিনি ২০০৩ সালে জীবন বাজি রেখে ইরাক যুদ্ধে রিপোর্টিংয়ে জন্য দারুণভাবে প্রশংসিত হন। একজন সাংবাদিক হিসেবে রাশেদ কাঞ্চনকে দেশে-বিদেশে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তিনি বাংলাদেশের সাংবাদিকতার আধুনিক যুগের একজন শীর্ষ সাংবাদিক।

বুধবার (১২ অক্টোবর) সাংবাদিক রাশেদ কাঞ্চনের জন্মদিন। জন্মদিনে সহকর্মী ও শুভাকাঙ্খীদের শুভেচ্ছায় সিক্ত রাশেদ কাঞ্চন।

পৃথিবীতে আসার এইদিনে নিউজ টিভি বাংলার পক্ষ থেকে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, বুদ্ধিদীপ্ত, সৎ সাংবাদিক রাশেদ কাঞ্চনকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

বর্তমান কর্মস্থল

রাশেদ কাঞ্চন বর্তমানে স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এসএ টিভির নির্বাহী পরিচালক (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি টেলিভিশনটির শীর্ষ উপস্থাপক। এছাড়াও তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় জনসংযোগ সংস্থা রাশেদ কাঞ্চন কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট এবং সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

টেলিভশন পর্দার আইকন

বাংলাদেশের স্যাটেলাইট টেলিভশনের যাত্রার শুরুর দিন থেকে আজ পর্যন্ত সংবাদ রিপোর্টিং এবং সংবাদ উপস্থাপনায় কোটি কোটি দর্শকের কাছে সুপরিচিত, জনপ্রিয় এবং টেলিভশন পর্দার আইকন হিসেবে পরিচিত রাশেদ কাঞ্চন।

রাশেদ কাঞ্চন সংবাদ পরিবেশনায় আধুনিকতার মিশেলে বৈচিত্র্য আনার কারণে ব্যাপক দর্শক নন্দিত হন। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহু পুরস্কার লাভ করেছেন। যুদ্ধ কাভারেজের পৃথিবীর বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিজ্ঞতা বর্ণনার জন্য আমন্ত্রিত হন এবং বক্তব্য রাখেন।

অতিথী পরায়ণ, সদা হাস্যোজ্জল, চিরসবুজ, বিনয় এবং কর্মদক্ষতার কারনে তিনি কর্মজীবনে অনেকের কাছেই আইডলে পরিণত হয়েছেন। বিশেষ করে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি রুচিশীল ও আধুনিক মনস্ক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়।

দৃঢ়তা, কর্ম নৈতিকতা এবং নিরলস পরিশ্রম তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

যুদ্ধের সংবাদ কাভারেজ

তিনি ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় বাগদাদ, বসরা, তিকরিত, কিরকুক, নাজাফ, নাসিরিয়া, কারবালা এবং ফালুজায় নিউজ কাভার করেছেন।

বিশ্ব ভ্রমণ

রাশেদ কাঞ্চন ২০০৩ সালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত-বাংলা সম্পর্ক বিষয়ক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের শীর্ষ সম্মেলন কাভার করেন।

তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পরিদর্শন করেছেন। এরমধ্যে রয়েছে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, লুক্সেমবার্গ, বেলজিয়াম, নেদার ল্যান্ডস, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, চীন, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, ওমান, কুয়েত, কাতার, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, সিয়েরা লিওন, হংকং, ভারত, মালদ্বীপ ও ইরাক।

বিশ্ব নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে তাঁর সাক্ষাতের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এরমধ্যে- সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী, ভারতের উপ-প্রধানমন্ত্রী এল কে আদভানি, সাবেক শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী উভয়, মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ, পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ও আসিফ আলী জারদারি, আফগানিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. হামিদ কারজাই, প্রাক্তন ইরানের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আহমেদি নেজাদ। আরও অনেক বিশ্ব রাজনীতিবিদ, সেলিব্রিটি, ব্যবসায়ী নেতা ও নোবেল বিজয়ীদের সাথে সাক্ষাত করেছেন তিনি।

প্রকাশনা ও সম্পাদনা

সম্পাদনা করেছেন ১০০ গ্লোবাল বিলিয়নেয়ার, ১০০ গ্লোবাল সেলিব্রিটি, ১০০ গ্লোবাল জার্নালিস্ট, ১০০ গ্লোবাল লিডার ইত্যাদি প্রকাশনা।

বিভিন্ন টেলিভিশন হাউজে সাংবাদিকতা

রাশেদ কাঞ্চন এটিএন বাংলা টিভির ইতোপূর্বে বিশেষ প্রতিবেদক এবং সিনিয়র নিউজ হোস্ট হিসেবে কাজ করেছেন।

চ্যানেল-আই টিভি নিউজে সংবাদ উপস্থাপক ও স্টাফ করেসপন্ডেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। চ্যানেল-আই টিভিতে প্রযোজনা পরিচালক ও অনুষ্ঠান উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন।

শিক্ষকতা

স্যার জন উইলসন স্কুলে ইংরেজির প্রভাষক হিসেবে কাজ করেছেন রাশেদ কাঞ্চন।

মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কলেজে ইংরেজির প্রভাষক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।

অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ইংরেজির প্রভাষক (পূর্ণ সময়) হিসেবে কাজ করেছেন।

পুরস্কার

বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। এরমধ্যে ইন্টারন্যাশনাল স্টার ফর লিডারশিপ ইন কোয়ালিটি অ্যাওয়ার্ড, প্যারিস-২০০৯। জেনেভা-2009-এ অনুষ্ঠিত সেঞ্চুরি ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিটি ইআরএ অ্যাওয়ার্ড। শ্রেষ্ঠ স্পট রিপোর্টার হিসেবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার-২০০৩।

টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিআরএবি)অ্যাওয়ার্ড-২০০৩-এ সেরা স্পট রিপোর্টার হিসেবে পুরস্কার পান। বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BCRA)-সমালোচক পুরস্কার-২০০৩ পান তিনি।

print

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six − two =