এসিল্যান্ডকে ছুরিকাঘাত: টেরা রাসেল রিমান্ডে, আদালতে ৬ আসামীর স্বীকারোক্তি

post top

আব্দুল্লাহ আল নোমান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, সাভার (ঢাকা):  সাভারে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু বকর সিদ্দিক আহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫ ছিনতাইকারীসহ ৬ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগম, ফারহানা আক্তার ও মোজাহিদুল ইসলামের আদালতে ছিনতাইকারীরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়।

এর আগে, মঙ্গলবার রাতে সাভারের নামা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাই চক্রের সদস্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিস্কৃত শিক্ষার্থী টেরা রাসেল (৩২) কে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪। পরে তাকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ আদালত শুনানি শেষে তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ছিনতাই চক্রের সদস্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিস্কৃত শিক্ষার্থী টেরা রাসেল।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া আসামিরা হলেন- গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার বাজুন্দি গ্রামের মৃত মালেক ফকিরের ছেলে রাসেল ফকির (২০), কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানার গজারিয়া বাজার গ্রামের ছাত্তারের ছেলে মো. নাঈম (২০), ঢাকার পশ্চিম ভাষানটেক এলাকার কামালের ছেলে মো. কামরুল হাসান (২২), মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার তিল্লিচর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে সজীব আহমেদ (২০), পাবনা জেলার বেড়া থানার ছোট পায়না গ্রামের মো. দুলালের ছেলে মো. আরমান (২১) ও মোবাইল বিক্রেতা মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার খালশি গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে গোলাম মোস্তফা (২৫)। তারা সবাই সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই করে বেড়াতো। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ বলেন, মামলাটি সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাশিদ স্যার তদন্ত করছিলেন। পরবর্তীতে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাভার সার্কেলের নেতৃত্বে সাভার, আমিনবাজার ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ৫ ছিনতাইকারীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় উদ্ধার করা হয় ৪ টি সুইস গিয়ার ছুরি, এসিল্যান্ডের লুন্ঠিত মানিব্যাগ।

ঢাকা জেলা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মতিউর রহমান বলেন, দুপুরে গ্রেপ্তার ৫ ছিনতাইকারীসহ ৬ জন আসামিকে আদালতে পাঠায় সাভার মডেল থানা পুলিশ। পরে বিকেলে তাদের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগম, ফারহানা আক্তার ও মোজাহিদুল ইসলামের আদালতে তোলা হয়। এসময় প্রত্যেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।

সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা জানান, গত ২২ অক্টোবর ৪৯ দিনের ল্যান্ড সার্ভে ও সেটেলমেন্ট বিষয়ক প্রশিক্ষন নিতে সাভারে আসেন কলাপাড়ার এসিল্যান্ড আবু বকর সিদ্দিক। ১৪ নভেম্বর বিকেলে তার অসুস্থ মাকে দেখতে রাজধানীর মিরপুরে যান তিনি। সেখান থেকে রাতেই সাভারে ফিরে আসেন। রাতে সাভারের সিএন্ডবি এলাকায় বাস থেকে নামার পর ছিনতাইকারীর কবলে পরেন তিনি। এসময় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হলে পুলিশ উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। পরদিন আবু বক্করের ভগ্নিপতি সুমন হোসেন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে গত ১৫ নভেম্বর ছিনতাই চক্রের হুতা টেরা রাসেল ও ১৬ নভেম্বর রাতে ৫ ছিনতাইকারীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাভার মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান পিপিএম (বার)।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঘটনার ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই আসামীদের সাভার ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছিনতাই এর সাথে সরাসরি জড়িত ৫ জন এবং মোবাইলটি যে দোকানে বিক্রি করা হয়েছিল সেই দোকানীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত ছুরি। যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা সবাই মাদক গ্রহণ করতো। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে মামলা রয়েছে।

print

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 3 =