এক মসজিদের দেশ স্লোভাকিয়ায় ইসলাম

post top

 ইসলাম ডেস্ক:  স্লোভাকিয়ার উত্তর-পশ্চিমে চেক প্রজাতন্ত্র। উত্তরে পোল্যান্ড ও পূর্বে ইউক্রেন। দক্ষিণে হাঙ্গেরি ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অস্ট্রিয়া।

মোট আয়তন ৪৯ হাজার ৩৫ বর্গ কিলোমিটার। রাজধানী ও বৃহত্তম শহর ব্রাতিস্লাভা। ২০১৮ সালের আদমশুমাররি অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৪০ জন।

স্লোভাকিয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য লীলাভূমি। পাহাড়, দুর্গ ও গুহায় পরিবেষ্টিত। দেশটিতে প্রায় ২০০টি দুর্গ রয়েছে। দুর্গগুলো দেখার জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা ভিড় জমান। এছাড়াও ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুহা রয়েছে স্লোভাকিয়ায়। স্লোভাকিয়ার গুহাগুলো এতটাই নয়নাভিরাম যে, এগুলোকে পৃথিবীর স্বর্গ বলা হয়।

এক মসজিদের দেশ স্লোভাকিয়ায় ইসলাম
স্লোভাকিয়ায় ইসলামের আগমন হয় ১০ শতাব্দীতে। মধ্য এশিয়া থেকে কিছু গোত্র স্লোভাকিয়ায় গেলে সেখানে ইসলামের যাত্রা শুরু হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে তুরস্কের উসমানি যখন মধ্য ইউরোপের দিকে অগ্রসর হতে থাকে তখন নতুন করে স্লোভাকিয়ায় ইসলামের যাত্রা শুরু হয়। উসমানিরা কসোভো ও মোহাজ যুদ্ধে বিজয়ী হলে ইসলামের অভিযাত্রা নতুন গতি পায়। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং বোগেনভিলের স্থানীয় কিছু মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেয়।

স্লোভাকিয়া চেকোস্লোভাকিয়ার অংশ থাকাকালে উসমানিরা বিজয় লাভ করেছিল। এরপর তারা মোরাভিয়ান অঞ্চলের রাজধানী বোর্নো অঞ্চলটিও জয় করে। তারা সেখানে কিছু মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে। তুর্কিরা সেখানে দীর্ঘদিন না থাকলেও তাদের কারণে এ অঞ্চলে অনেকে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিল। তুর্কিরা ইউরোপের মধ্যাঞ্চল ছেড়ে আসার পর মুসলমানরা সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হয়। তাদের মসজিদগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মাদ্রাসাগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে ধর্মীয় সহনশীলতা আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত অনেকেই দেশে ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়।

১৯১২ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রীয় সম্রাট ফ্রাঙ্কোস জোসেফ দ্বিতীয় নতুন আইন পাস করেন এবং ইসলামকে দেশীয় ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেন। ফলে তখন মুসলমানরা নতুন করে ধর্ম পালনের সুযোগ-সুবিধা পান। তখন দেশটিতে আবারও মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মিত হতে থাকে। বেশ কয়েকটি সেবাসংস্থা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গঠিত হয় চেকোস্লোভাকিয়া ইসলামিক ইউনিয়ন। পরবর্তী সময়ে চেকোস্লোভাকিয়া ইসলামি ইউনিয়ন বিভিন্ন প্রকাশনা ও একটি সংবাদপত্র (ইকো) প্রকাশ করে। এমনকি চেকোস্লোভাকিয়ান ভাষায় পবিত্র কোরআনের তিনটি অনুবাদও প্রকাশিত হয়।

মুসলিমদের সংখ্যা
২০১০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, দেশটিতে মুসলমানদের সংখ্যা ১০ হাজার ৬০০ জন। জনসংখ্যা আনুমানিক প্রায় ২ শতাংশ। যদিও কিছু সংখ্যক মুসলমান বিশ্বাস করেন, বর্তমানে মুসলমানদের সংখ্যা প্রায় ৬ শতাংশ। আধুনিক তুরস্কের কিছু আরব শিক্ষার্থী দেশটিতে অবস্থান করায় এ সংখ্যা বেড়েছে। যাদের বেশির ভাগই বাস করেন ব্রাতিস্লাভায়। স্থানীয় মুসলিমরাও রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় বাস করেন। এছাড়া বর্নো, প্রাগ ও ট্র্যাজে শহরে মুসলমানদের নিবাস রয়েছে। তবে পুরো দেশজুড়ে একটি মাত্র মসজিদ রয়েছে।

মুসলিম সংখ্যালঘু ও শিশুদের সহায়তা দিতে বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন ও সমিতি নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে ইসলামিক অ্যান্ডোউমেন্ট সোসাইটি ও মুসলিম ছাত্র সাধারণ ফেডারেশন অন্যতম। এসব সংগঠন নিজেদের ধর্মীয় সংস্কৃতি ও মুসলিম উম্মাহ নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে। ইসলামের রূপ-বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য তুলে ধরতে নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

print

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − six =