আশুলিয়ায় স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কে হত্যার শিকার কথিত দাদা, দম্পতি গ্রেপ্তার

post top

আব্দুল্লাহ আল নোমান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, সাভার (ঢাকা):  স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে গ্রাম থেকে ঢাকার আশুলিয়ায় বেড়াতে আসা কথিত দাদা উজীর আলী মন্ডল হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ঘটনার ৬ দিন পর অভিযুক্ত দম্পতিকে ঝিনাইদহ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তারা পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। উজির আলী মন্ডল গ্রাম সম্পর্কে গ্রেপ্তার দম্পতির দাদা হয়। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মামুন কবির। এর আগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঝিনাইদহ জেলার সদর থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাতে তাদের আশুলিয়া থানায় আনা হয়।

গ্রেপ্তার টুটুল ও জেসমিন (মাঝে)।

গ্রেপ্তার টুটুল (২৮) কুষ্টিয়া জেলার মীরপুর থানার পোড়াদহ এলাকার গোবিন্দপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে। অপরজন টুটুলের স্ত্রী জেসমিন (২২) একই থানার কালিনাথপুর গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে। হত্যার শিকার উজির আলী মন্ডল (৪০) ও অভিযুক্ত টুটুলের বাড়ি একই গ্রামে। পাড়া প্রতিবেশী হিসেবে সম্পর্কে উজির আলী মন্ডল তাদের দাদা হয়।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মামুন কবির জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পলাতক ছিল তারা। মোবাইল ট্রেকিং-এর মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে ঝিনাইদহ জেলা থেকে শুক্রবার ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জেসমিনের সঙ্গে নিহত উজীর আলীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। হত্যাকাণ্ডের দিন আসামি টুটুল বাইরে থেকে এসে তার স্ত্রী জেসমিন ও কথিত দাদা নিহত উজীর আলীকে অনৈতিক অবস্থায় দেখে ফেলে। তখন ক্ষোভে টুটুল উজীর আলীকে হত্যা করে। এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে স্ত্রী জেসমিনও সহযোগিতা করে। এই ঘটনার পর দম্পতি পালিয়ে যায়।

এসআই আল মামুন কবির আরো বলেন, সে সময় হয়তো জেসমিন স্বামী টুটুলকে ভুল বুঝিয়েছে, যে উজীর আলী তাকে ধর্ষণচেষ্টা করেছে বা পরকীয়া সম্পর্ক থাকলেও স্বামীর ভয়ে জেসমিনও এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত হতে পারে। তবে আরো জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিশ্চিতভাবে জানা যাবে। শনিবার আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে আশুলিয়ার পূর্ব ডেন্ডাবর এলাকায় মো. আসলামের মালিকানাধীন টিনসেড বাড়ির একটি কক্ষ থেকে উজীর আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে আশুলিয়ায় টুটুল-জেসমিনের দাদা পরিচয়ে ওই ভাড়া বাড়িতে বেড়াতে আসে উজির আলী। সেই রাতেই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে কক্ষে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায় টুটুল-জেসমিন দম্পতি। এই ঘটনায় ২০ সেপ্টেম্বর নিহতের বড় ভাই নাজির আলী বাদী হয়ে দম্পতিকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

print

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × two =