আশুলিয়ায় যুবককে পিটিয়ে জিহ্বা কেটে দিল মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন!

post top

আব্দুল্লাহ আল নোমান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: সাভারের আশুলিয়ায় সুজন হোসেন (৩২) নামের এক রোগীকে পিটিয়ে জিহ্বা কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এদিকে ভুক্তভোগী রোগীকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে আশুলিয়ার শ্রীপুরে এ.রহমান প্লাজার ২য় তলায় নতুন স্বপ্ন মাদকাসক্তি সহায়তা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সুজন হোসেন রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার আফসার প্রধানের ছেলে। সে গাজীপুরের কাশিমপুর থানার পুবাইল গ্রামে পরিবারের সাথে থেকে রিকশা চালাতো।

ভুক্তভোগীর বোন সেতু আক্তার জানান, গত ২ মার্চ নতুন স্বপ্ন মাদকসক্তি সহায়তা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য সুজনকে ভর্তি করা হয়। পরে আজ বিকেলে নিরাময় কেন্দ্রের মালিক সাইদুর দেওয়ান, রাজীব ও জুবায়ের তাকে ফোন করে জানায় সুজন আত্নহত্যা করার চেষ্টা করছে। পরে গিয়ে দেখা যায় শ্রীপুরের নিউ স্বপ্ন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে সুজনকে বেধড়ক পিটিয়ে জিহ্বা কেটে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাইদুর আগে নিজেই মাদকসেবী ছিল। বিভিন্ন রিহ্যাব সেন্টারে চিকিৎসা নিয়ে এখন সে নিজে রিহ্যাব সেন্টার খুলেছে। প্রতিদিন রাতে সাইদুর মাদক সেবনের আড্ডা বসায় তাঁর মাদক নিরাময় কেন্দ্রে। সে স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলেনা বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

সাভার উপজেলার ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য মমতাজ উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেটার জিহ্বার অর্ধেক অংশ কাটা এবং গায়ে প্রচুর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে আমি আশুলিয়া থানায় খবর দেই।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ মন্সী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সুজন নামের একজনকে জিহ্বা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত নিরাময় কেন্দ্রের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর পরই তারা পালিয়ে গেছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন।

print

Share this post

post bottom

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 + 13 =